নয়াদিল্লি: এনআরসি ইস্যুতে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গী। সোমবার শিলিগুড়িতে গিয়ে এনআরসি প্রসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘‘বাংলায় এনআরসি করতে দেব না৷ একটি মানুষকেও বাংলা থেকে বিতাড়িত করার কোন ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না৷ বাংলার মাটিতে থাকা প্রত্যেকেই ভারতের নাগরিক।’’

শিলিগুড়িতে পুলিশের ডাকা বিজয়া সম্মিলনীতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একথা বলেছেন। আর এরপরই প্রতিক্রিয়া দেন কৈলাশ বিজয়বর্গী।

মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থার মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী নন। এনআরসি হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নেবে। উনি কেন এত চিন্তা করছেন? যদি কেন্দ্র এনআরসি বাস্তবায়িত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওনার কিছুই করার থাকবে না।’

সোমবার শিলিগুড়িতে তিনি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেব না। আমি আপনাদের পাহারাদার। একটা মানুষকেও বাংলা থেকে যেতে দেব না। যারাই এরাজ্য়ে বসবাস করেন তারাই বাংলার বাসিন্দা। যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তাদের এখনই ভোটার তালিকায় নাম নথিভূক্ত করতে হবে। আমরা রাজ্যে কোনও ভেদাভেদ মেনে নেব না। আমি মমতা ব্যানার্জি। আমি যদি বলি শুধু ব্যানার্জি থাকবে আর কেউ থাকবে না! এটা আমি ভাবতেই পারি না। বরং ব্যানার্জি চলে যাক। মানুষ থাকুক। এটাই আমি চাই।’

এনআরসির বিরোধিতা করতে গিয়ে এদিন রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, সুভাষচন্দ্র বসুর নাম নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘যারা দেশে নবজাগরণের ঘটিয়েছেন, যাদের আন্দোলননে দেশ স্বাধীন হয়েছে তাঁরাই আমাদের এদেশে থাকার অধিকার অর্জন করেছেন। তাই কোনও দেশবাসীকে কেন্দ্রীয় সরকার তাড়াতে পারবে না।’

এর আগে বিজয়বর্গী বলেছিলেন, ‘‘বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনাদের আশ্বস্ত করে বলছি, এনআরসি করা হবেই। একজন হিন্দুকেও দেশছাড়া করা হবে না। প্রত্যেক হিন্দুকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে’’। একইসঙ্গে বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘‘কয়েকজন রয়েছেন, যাঁরা জনমানসে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন’’।