নয়াদিল্লি: নির্বাচনী ইস্তেহারে বিজেপি দাবি করেছে তারা ক্ষমতায় এলে বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে ভারতরত্ন দেবে। আর সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

বিজেপির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘যদি সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়, তাহলে গডসেকে কেন দেওয়া যাবে না?’ তাঁর কথায়, ‘দুই দেশের তত্ত্ব প্রথম দিয়েছিলেন সাভারকর, যেটা জিন্না পরে বাস্তবায়িত করে। যদি যে কাউকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়, তাহলে গডসেকেও দিন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘হিন্দুত্বের আদর্শের কথা সাভারকরই লিখে গিয়েছিলেন। আদর্শের উপর ভিত্তি করে বিজেপির কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উচিৎ।

ইস্তেহারে কৃষক আত্মহত্যার কথা নেই বলেও আক্রমণ করেন তিনি। ওয়াইসি বলেন, শুধু মহারাষ্ট্রেই ৮০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। আর তা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি ইস্তেহারে।

অন্যদিকে এই ইস্যুতেই বিজেপি’র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারি। এনডিএ-কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, ওই দলের সরাসরি নাথুরাম গডসেকেই সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান দেওয়া উচিত।

কংগ্রেস নেতা বলেন, সাভারকরের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আনা হয়েছিল, যেখানে নাথুরাম গডসে এই হত্যাকাণ্ড চালান। এই বছর আমরা মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছি, এই উপলক্ষে এনডিএ সরকারের উচিত সাভারকরের বদলে সরাসরি গডসেকেই ভারতরত্ন দেওয়া, নাগপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই বলেন কংগ্রেসের ওই মুখপাত্র।

এর আগে, কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিও সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার বিষয়ে বিজেপি’র প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘এরপর হয়তা ভারতরত্ন দেওয়ার তালিকায় পরের দিকে নাথুরাম গডসের নামও থাকতে পারে। সবাই সাভারকরের ইতিহাস জানে। সাভারকরের বিরুদ্ধে গান্ধীজিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল, প্রমাণের অভাবে যদিও পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এখন, এই সরকার বলছে যে তারা সাভারকরকে ভারতরত্ন দেবেন, আমি ভয় পাচ্ছি এই ভেবে যে পরের তালিকায় গডসের নামও থাকতে পারে।’

সম্প্রতি, বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং মহারাষ্ট্রের মুখমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে দলের ইস্তাহার প্রকাশ করেন, যে ইস্তাহারে সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।