নয়াদিল্লি: ‘বিপজ্জনক, বাস্তবে রূপায়ণে’র যোগ্য নয়’৷ কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারকে এইভাবেই ব্যাখ্যা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ কংগ্রেসের ইস্তেহারকে

মঙ্গলবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী সহ দলের প্রথম সারির নেতাদের উপস্থিতিতে ১৯শের লোকসভা ভোটের ইস্তেহার প্রকাস করেন রাহুল গান্ধী৷ সেখানে জম্মু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে “আর্মস ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট” পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে৷ এছাড়াও পঞ্চায়েতে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান, ১০০ দিনের কাজের সময় বাড়িয়ে ১৫০ দিন করা, জিডিপি-র ৬ শতাংশ টাকা শিক্ষাক্ষেত্রে দেওয়া ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ কংগ্রেস সভাপতি প্রকাশিত ইস্তেহারের বিরোধীতা করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘কংগ্রেসের ইস্তাহারে এমন সব কর্মসূচি রয়েছে যা দেশকে টুকরো করে দিতে পারে৷।’’ সম্পূর্ণ ইস্তেহারকেই ভুয়ো প্রতিশ্রুতি বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিজেপি’র তরফে৷

আরও পড়ুন: মোদী-মমতা প্রচার ঝড়, সওয়াল-জবাবের অপেক্ষায় আমজনতা

জম্মু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে আর্মস ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলের তরফে৷ যার বিরোধীতা করেন জেটলি৷ তাঁর মতে, ‘‘কংগ্রেসের ইস্তাহার মাওবাদীদের এবং জিহাদিদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে৷ পাশাপশি সন্ত্রাসবাদীরাই যেন নির্ধারণ করবে সেনাবাহিনী ঠিক করবে, না ভুল করবে তা বিচার করার। যা ভয়ংকর ইঙ্গিত৷’’

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চাই: খলিলুর রহমান

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘কংগ্রেসের ইস্তাহার অনুসারে এবার থেকে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত হওয়া আর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। যে দল একথা বলে তারা একটাও ভোট পাওয়ার যোগ্য নয়৷’’তাঁর মতে যে দলের ইস্তেহারে বলা হয় উপত্যাকা থেকে সেনাবাহিনী ক্রমশ কমিয়ে আনা হবে সেই দলকে দেশের শাসনভার দেওয়া উচিত কিনা ভেবে দেখা উচিত৷

কর্মসংস্থানের হিসাবে গত পাঁচ বছরে অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়৷ প্রতিশ্রুতি মতো কর্মসংস্থান করতে ব্যর্থ মোদী সরকার৷ অভিযোগ কংগ্রেসের৷ অরুন জেটলির অভিযোগ, কংগ্রেসের ইস্তেহার ও দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান নিয়ে পার্থক্য রয়েছে৷ এটা আসলে বাজে কথা বলার ফল৷

ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস ‘ন্যায় প্রকল্পে’র সূচনা করবে৷ ই যোজনায় দেশের হতদরিদ্র ৫ কোটি পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হবে৷ অর্থাত্‍‌ মাসে ৬ হাজার টাকা করে৷ এই টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকে যাবে৷ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খোদ দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ এদিন এই প্রকল্পকে কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ তাঁর মতে, কোনও দল যখন স্পষ্ট ইঙ্গিত পায় যে তারা আসছে না তখনই এই ধরণের প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেয়৷