নয়াদিল্লি: দেশে লকডাউন চলছে।করোনা নিয়ন্ত্রণের সবরকম চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দিল আইসিএমআর। এমন অনেকের শরীরে ধরা পড়েছে করোনা সংক্রমণ, যাদের কোনও বিদেশ বা ভিনরাজ্যে যাত্রার ইতিহাস নেই।

জানা গিয়েছে, আইসিএমআর ৫,৯১১ জনের টেস্ট করেছে যাদের ‘সিভিয়ার রেসপিরেটরি ইলনেস’ রয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই ১০৪ জনের মধ্যে ৪০ জনের কোনও বিদেশ যাত্রার ইতিহাস নেই বা করোনা সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার অভিজ্ঞতাও নেই।

ওই ১০৪ জন ছড়িয়ে রয়েছেন ২০ রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৫২টি জেলায়। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। যদিও কমিউনিটি ট্রান্সমিশন নিয়ে কোনও মন্তব্য রেনি আইসিএমআর।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে আক্রান্তরা সকলেই সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস, সংক্ষেপে SARI পজিটিভ। ICMR-এর তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ৬, মহারাষ্ট্রের ৮, দিল্লি ও তামিলনাড়ুর ৫টি এবং গুজরাতের ৪টি জেলায় করোনা আক্রান্তদের সন্ধান মিলেছে, যাঁরা SARI পজিটিভ। ১০৪ জনের মধ্যে ৮৫ জন পুরুষ ও ৮৩ জন চল্লিশোর্ধ।

জানা গিয়েছে, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ২০ মার্চ আইসিএমআর টেস্টি-এর স্ট্র্যাটেজি বদলায়।

৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মাত্র ৪২,৭৮৮ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। যদিও এপ্রিলের শুরু থেকেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে দেশে করোনা টেস্টের হার আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সীমিত টেস্ট কিটেই আরও বেশি করে পরীক্ষা শুরু হয়ে দেশে। কেন্দ্রের আশঙ্কা, যে গতিতে দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে তাতে করোনা টেস্ট যদি আরও বেশি করে করা না যায় তবে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। এর জেরে দেশে মারণ করোনার সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

আইএমসিআর-এর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশে এখনও পর্যন্ত মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার স্যাম্পেল টেস্ট করা হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে ৫৩৭৪টি স্যাম্পেল পজিটিভ। ১৪ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যগুলিকে নয়া টার্গেট দেওয়া হয়েছে।

করোনায় দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৬,৪০০। মৃতের সংখ্যা ১৯৯। যে কোনও মুহূর্তেই ২০০-এর ঘরে গিয়ে উঠতে পারে এই সংখ্যা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, দেশে মোট করোনা আক্রান্ত ৬৪১২ জন। এদের মধ্যে ৫০৩ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে বা তাঁরা সেরে উঠেছেন। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।