তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ফের হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ার গ্রামে। বাঁকুড়া রেঞ্জের বেলবনী বিটের গোবর্ধনপুর গ্রামে হামলা চালায় তিনটি আবাসিক হাতির একটি দল। এই হাতিগুলির আক্রমণে গ্রামের একমাত্র আইসিডিএস কেন্দ্র ও পাশের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আইসিডিএস কেন্দ্রটির দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ওই কেন্দ্রে মজুত থাকা বেশ কিছু চাল হাতির দলটি খেয়ে ফেলার পাশাপাশি রান্নার সরঞ্জামও ভেঙ্গে দেয়। এই ঘটনার পর ওই গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হাতির দলটি আক্রমণের চেষ্টা করলেও গ্রামবাসীরা বিষয়টি বুঝতে পারায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে ফের জঙ্গলে ফিরে যায়।

শুক্রবার ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামবাসীদের চোখে মুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ। এই ঘটনা জঙ্গল লাগোয়া গোবর্ধনপুর গ্রামে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাত পোহালে আবার হয়তো হাতির দলটি গ্রামে ঢুকে পড়বে, সে চিন্তায় এখন জঙ্গল লাগোয়া গোবর্ধনপুর গ্রামের মানুষের।

গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায়শই হাতির দলটি গ্রামে ঢুকে পড়ছে। তারা এই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত। জমির ফসল নষ্টের মতো ঘটনা প্রায়শই ঘটছে বলে তাদের দাবি। এই অবস্থায় গ্রামবাসীদের সুরক্ষার স্বার্থে হাতির দলটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি উঠছে।

হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত আইসিডিএস কেন্দ্রটির কর্মী অসীমা চট্টরাজ বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণের আবেদন করলেও কোন সাহায্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি৷ বলেন, গত দু’বছরে দু’বার আবেদন করেছি। কিন্তু বনদফতরের কাছ থেকে কানাকড়িও ক্ষতিপূরণ মেলেনি। বার বার হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটায় শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের এখান থেকে খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের রুপালী রায়ও। তিনি বলেন, এই নিয়ে পাঁচ বার হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটল। হাতির দলটি দরজা ভেঙ্গে মজুত রাখা চাল, ডাল খেয়ে ফেলার পাশাপাশি রান্নার সরঞ্জামও নষ্ট করে দিয়েছে। মাঝে স্থানীয় কমিটির তরফে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। বনদফতরের লোকেরা ঘটনার পর ঘুরে নতুন দরজা তৈরির টাকা দেওয়ার কথা বললেও খাবার নষ্টের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন। এই অবস্থায় শিশু শিক্ষার্থীদের খাবারের জোগান কিভাবে হবে ভেবে পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বিট অফিসার অশোক কর্মকার হাতির আক্রমণের কথা স্বীকার করে বলেন, জঙ্গলে পর্যাপ্ত খাবার না মেলার কারণে বার বার লোকালয়ে হাতি ঢুকে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.