স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের মরশুম। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোর প্রাণকেন্দ্র হিসাবে সবার আগে মানচিত্রে তিলোত্তমার নাম উঠে আসলেও বিগত কয়েকবছর ধরে মহানগরের পুজোর সঙ্গে চলছে শহরতলি তথা মফস্বল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলাগুলির জোর টক্কর। থিমের জোয়ারে একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় সামিল হন বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের পুজো উদ্যোক্তারা। সবমিলিয়ে উৎসব প্রিয় বাঙালি মহালয়ার পর থেকেই শুরু করে দেয় পুজোর কাউন্ট ডাউন।

বারো মাসে তেরো পার্বণ প্রিয় বাঙালির শরতের দুর্গা উৎসব হল শ্রেষ্ঠ উৎসব। যার জন্য কমবেশি প্রতিটি বাঙালি বছরভর অপেক্ষা করে থাকে মায়ের আগমনের জন্য। কবে আসবে শারদোৎসবের শুভ মাহেন্দ্রক্ষন তারই অপেক্ষায় দিন গোনা শুরু হয় আমবাঙালির। শারদ প্রাতের শুভক্ষনে তথাকথিত মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত বাঙালি যখন নিজে সাজতে এবং আপনজনদের সাজাতে ব্যস্ত থাকে তখন আবার কোথাও কোনও অনাথ বা গরীব অসহায় শিশুর পরনে জোটে না পুজো উপলক্ষ্যে নতুন জামা কাপড়। হয়ত সাধ থাকলেও সাধ্য না থাকায় দারিদ্যের কাছে কোথাও যেন মলিন হয়ে যায় এইসব মানুষগুলোর পুজোর আনন্দ। ফলে পছন্দের পোশাক পড়ে প্রিয়জনদের হাত ধরে প্যান্ডেল হপিং করার স্বপ্ন এদের বাস্তবায়িত হয়না কখনও। যার কারনে মধ্যবিত্তের নিজেকে সাজানোর ব্যস্ততা এবং আলোর রোশনাই ঢেকে যায় ওদের কচি কচি শুকনো মুখ গুলো।

এইসব অসহায় প্রান্তিক মানুষেরা যাতে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত নতুন জামা কাপড় পড়ে পুজো কাটাতে পারে এছাড়াও আমজনতার সঙ্গে যাতে পুজোর আনন্দে সামিল হতে পারে তার জন্য এইসমস্ত অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়াল বাঁকুড়া জেলার ‘ইচ্ছুক’ নামের একটি স্বেছাসেবি সংগঠন। এই সংগঠনের তরফে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তের গরীব অসহায় শিশুদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর পাঁচটা দিন বাকি বাঙালিদের মত তাঁদের দিনগুলিও যাতে আনন্দে কাটে তার উদ্দ্যেশেই এই ছোট্ট প্রয়াস বলে খবর জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর,গত বছর ষষ্ঠীর দিন থেকে সাধারণ অসহায় প্রান্তিক, গরীব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে এই সংগঠনের পথ চলা শুরু হয়। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ এক বছর। প্রচারের আড়ালে থেকে নিজেদের অভীপ্সিত কাজকর্ম চালিয়ে গিয়েছে এই সংস্থা। ফলে দুর্গা পুজো অনেকের কাছে আনন্দের হলেও কারও কারও কাছে এই পাঁচটা দিন বিষাদময় হয়ে উঠে। এই বিষাদের কারন একটাই পুজোর দিনগুলিতে নতুন জামা কাপড় না জোটায় পুরনো ছেঁড়া বস্ত্র পড়েই কাটাতে হয় তাঁদের পুজো। শারদ উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা বাঙালির এদের নিয়ে ভাবার এক মুহূর্ত ফুসরত নেই। কিন্তু এবার পুজোয় ওদের কথা ভাবতে এগিয়ে এল ‘ইচ্ছুক’।

দুর্গা পুজো উপলক্ষ্যে ইচ্ছুকের তরফে নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে শারদোৎসবের আনন্দে প্রান্তিক মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বস্ত্র। এই মহৎ কাজের উদ্দ্যেশ্যর কারন একটাই যাতে ওরাও অন্যদের মত পুজো আনন্দ করে হইচই করে কাটাতে পারে।

‘ইচ্ছুকে’র তরফে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরে অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে নতুন বস্ত্র তুলে দিল সোমা আকুলি, অনুরুপ ঘোষাল, শুভ্র রঞ্জন কর্মকার, জুঁই রুদ্র, অর্ঘ্য দত্ত নামে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা। জানা গিয়েছে, রবিবার মহাষ্টমীর সকালে ওইসব ছাত্র ছাত্রীদের তরফে প্রান্তিক অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। ফলে সবাই যখন পুজোর আনন্দে সামিল, তখন এই কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা অসহায় মানুষদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিতে ব্যস্ত। আর তাঁদের এই উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

ছাত্র ছাত্রীদের ঐ সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন কুড়ি জন অসহায় বৃদ্ধা ও দশ জন শিশুকে শাড়ি ও জামা দেওয়া হয়েছে। ‘ইচ্ছুকে’র পক্ষে সোমা আকুলি, অনুরুপ ঘোষালরা বলেন, গত বছর ষষ্ঠীর দিন আমাদের এই সংগঠনের পথ চলা শুরু। ‘এই এক বছরে আমরা বন্ধুরা নানান জনহিতকর কাজ করেছি’। ইছুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার পুজোয় তাঁরা বেশ কিছু মানুষকে নতুন পোশাক দেওয়ার কথা ভেবেছিল। আর সেই কারনেই বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর স্টেশনে পৌঁছে যায় তাঁরা। সেখানে ওইসব অসহায় মানুষদের হাতে শাড়ি ও ছোটোদের জন্য জামা তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।