প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর : বিনা চিকিৎসায় কলকাতা মেডিকেলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায়, বেলঘরিয়া থানায় বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন পরিবার।

উত্তর ২৪ পরগণার ইছাপুরের বাসিন্দা ওই যুবকের শরীরে করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না বলেই দাবি পরিবারের। বেলঘরিয়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোম তড়িঘড়ি ওই যুবকের কোভিডের রিপোর্ট দেয় বলে অভিযোগ। যার ফলে কার্যত বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায় ওই যুবকের পরিবার। এমনটাই অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি নিলেও আর শেষরক্ষা হয়নি বলে দাবি। চিকিৎসা শুরুর আগেই ক্লান্তিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অসুস্থ ওই যুবক। এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।

এদিন মৃতের মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় বেলঘরিয়া থানায় এসে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। আমার ছেলের করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না। ছেলে সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বাড়ি থেকে হেঁটেই ডাক্তার দেখাতে গাড়িতে উঠেছিল সে। আমি আমার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম।

অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে যখন বেলঘরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে আসি, তারা জানায় আগে আমার ছেলের কোভিড টেস্ট হবে, তারপর ওরা সিদ্ধান্ত নেবে ভর্তি নেওয়া হবে কি হবে না। সেই মত ওরা ওর রক্ত নিয়ে কি পরীক্ষা করল জানি না । মাত্র ৩ মিনিটে হাতে লেখা রিপোর্টে ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাল আমার ছেলে নাকি করোনা পজিটিভ, তাই ওরা ভর্তি নেবে না।

আমার প্রশ্ন একটাই তিন মিনিটে কেউ করোনা পজিটিভ রিপোর্ট কি করে দিতে পারে? আমি বিশ্বাস করি না আমার ছেলের করোনা উপসর্গ ছিল । ওই রিপোর্টের কারনেই আমার ছেলেকে সব হাসপাতাল ফিরিয়ে দিচ্ছিল । সবাই বলেছে বেড নেই । একটা বেসরকারি হাসপাতাল তিন মিনিটের কি হাতে লেখা রিপোর্ট দিল, তাতেই কি প্রমাণ হয় আমার ছেলে করোনা পজিটিভ ?”

তিনি আরও বলেন, “কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যখন ভর্তি নিল, তখন আমার ছেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে বিধ্বস্ত। আমার ছেলের অবস্থার অবনতি হতে থাকে । ওকে কোনও রকম চিকিৎসা পরিষেবা না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। আমি চাই আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হোক, ওর মৃতদেহ আমাদের হাতে তুলে দেয়নি কলকাতা মেডিকেল কলেজ।

আমরা চাই ওর দেহের ময়নাতদন্ত করা হোক। একটা বেসরকারি হাসপাতালের হাতে লেখা রিপোর্টে কি করে সরকারি হাসপাতাল বলে দিচ্ছে আমার ছেলের করোনা ছিল ? আমি সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি । আমার ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা খুন করেছে।

আমি আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর ন্যায্য বিচার চাই। আমার ছেলের করোনা ছিল কি না তা পরীক্ষা করে দেখুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যদি ছেলের করোনা না হয়ে থাকে তবে ছেলের মৃতদেহ আমাদের হাতে ফিরিয়ে দিক।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ