কলকাতা২৪x৭: ব্যাট-বল কিংবা ফিল্ডিং ছাপিয়ে ক্রিকেট ম্যাচে যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে আম্পায়ার কিংবা আম্পায়ারিং, তখন তা আঘাত করে ক্রিকেটীয় স্পিরিটে। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ঘটল ঠিক তেমনটাই। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ রানের স্বল্প ব্যবধানে হার ক্যারিবিয়ানদের যত না হতাশ করেছে তার চেয়ে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার কিংবা অনুরাগীরা বেশি হতাশ বাইশ গজে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁদের বিপক্ষে যাওয়ায়। বৃহস্পতিবারের ম্যাচ যা বারংবার উসকে দিচ্ছিল চলতি মরশুমে আইপিএলে জঘন্য আম্পায়ারিংয়ের স্মৃতি।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যে রুদ্ধশ্বাস সেই ম্যাচে শেষ ওভারে বল করতে আসেন মালিঙ্গা। শ্রীলঙ্কান পেসারের অন্তিম ডেলিভারিতে জয়ের জন্য ৭ রান প্রয়োজন ছিল আরসিবি’র। কিন্তু ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে ব্যর্থ হন অন-স্ট্রাইক ব্যাটসম্যান শিবম দুবে। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক থাকলেও ম্যাচ শেষের পর জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখা যায় শেষ বলটিতে ওভারস্টেপ করেন মালিঙ্গা। যা পুরোপুরি নজর এড়িয়ে যায় আম্পায়ারের। আর আম্পায়ারের নজর এড়িয়ে না গেলে ম্যাচের ফল যে অন্যরকম হতে পারত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আরও পড়ুন: পানীয় জলে গাড়ি ধোয়ায় জরিমানা কোহলির

ঠিক সেই ম্যাচের ঘটনা ক্রিকেট অনুরাগীদের স্মৃতিপটে ফিরে ফিরে আসছিল বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দেখতে দেখতে। এদিন ক্যারিবিয়ান ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মিচেল স্টার্কের টানা তিনটি ডেলিভারিতে এলবিডব্লু’র আবেদন ওঠে ক্রিস গেইলের বিরুদ্ধে। প্রথম দু’বার ডিআরএস নিয়ে বেঁচে গেলেও তৃতীয়বার আম্পায়ার’স কল গেইলের বিপক্ষে যায়। কিন্তু দেখা যায় তার আগের ডেলিভারিতে বড়সড় একটি ওভারস্টেপ করেছেন স্টার্ক। অর্থাৎ, যে ডেলিভারিতে ক্যারিবিয়ান ওপেনার আউট হন সেটি আদতে নো-বল হওয়ার কথা। স্বভাবতই ম্যাচের পর নিউজিল্যান্ড আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানির উপর ক্ষোভ উগরে দেন ক্যারিবিয়ান অল-রাউন্ডার কার্লোস ব্রাথওয়েট।

আরও পড়ুন: লন্ডনে ভারতীয় হাই-কমিশনারের বাসভবনে অতিথি বিরাটরা

ক্রিকেট বিশ্বকাপের মেগা আসরে আম্পায়ারদের এহেন শিশুসুলভ সিদ্ধান্তকে একহাত নিতে ছাড়েননি ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিংও। বিশ্বকাপের আসরে ক্রিকেটীয় স্পিরিট যাতে ষোলোআনা বজায় থাকে, সেটাই প্রাথমিক চাহিদা একজন ক্রিকেট অনুরাগীর। কিন্তু ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের তীব্র অসন্তোষ কিংবা মাইকেল হোল্ডিংয়ের মত কিংবদন্তিদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থাকে নিম্নমানের আম্পায়ারিং নিয়ে কোনওরকম বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। বরং গত ২৪ ঘন্টায় আইসিসি অনেক বেশি ব্যস্ত থেকেছে ধোনির গ্লাভসে সেনার ‘বলিদান’ ব্যাজ নিয়ে।

আরও পড়ুন: বোর্ডের অনুরোধ সত্ত্বেও গ্লাভস বিতর্কে আইসিসি’র সমর্থন পেলেন না ধোনি

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সেনার সম্মানে ধোনির কীর্তিতে ‘বিতর্ক’ তকমা না সেঁটে আম্পায়ারিংয়ের মানকে অগ্রাধিকার দেওয়াই কি আইসিসি’র প্রাথমিক কর্তব্য ছিল না? যাতে বিশ্বকাপের মত আসরে পরবর্তীতে কোনও দল আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে না পারে। নাকি ধোনির বিতর্কে দিনভর একের পর এক মোড় এনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিযোগকে লঘু করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় আইসিসি। একইসঙ্গে প্রশ্ন, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মত প্রথমসারির সদস্য দেশগুলি এমন গুরুতর অভিযোগ আনলে কি এতটা নিশ্চুপ থাকতে পারতেন ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার কর্তা-ব্যক্তিরা?