নয়াদিল্লি: কড়া নজরদারি ভারতীয় বায়ুসেনার। মঙ্গলবার রাতে লাদাখ জুড়ে চিন সীমান্তের গা ঘেঁষে উড়ল মিগ-২৯ ফাইটার জেট, অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই বায়ুসেনার এই টহলদারি বলে জানা গিয়েছে।

ভারতীয় বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ রাঠি জানান, এইরকম নাইট অপারেশন করতে প্রস্তুত বায়ুসেনা। বায়ুসেনার পাইলটরাও পুরোপুরিভাবে তৈরি। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রও তৈরি। এদিকে, সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ৩ এয়ারক্রাফটবাহী গাড়ি, সি-১০৩ জে সুপার হারকিউলিস যাতে ভারি ভারি সামরিক অস্ত্র বহন করা সম্ভব হয়। সেনা ছাউনির কাছে তা রাখা হয়েছে।

ভারতীয় বায়ুসেনা ব্যবহার করছে Ilyushin-76। যাতে সেনাজওয়ানদের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া যায়। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া তথ্যে এমনই জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক সূত্র। বায়ুসেনার সুখোই ৩০ এমকেআই, জাগুয়ার, মিরাজ-২০০০ এয়ারক্রাফট মোতায়েন করা হয়েছে লেহ ও শ্রীনগরে।

এদিকে, অজিত দোভালের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রীর দীর্ঘ আলোচনার পরেই গালওয়াল থেকে সেনা সরাতে বাধ্য হল বেজিং। প্রথমে জানা গিয়েছিল এক কিলোমিটার সরে যাচ্ছে চিনের বাহিনী। কিন্তু জাতীয় এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে প্রায় দেড় থেকে ২ কিলোমিটার পিছনে নিজেদের সমস্ত ঘাঁটি সরিয়ে নিয়েছে চিনের বাহিনী।

এমনকি পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ থেকেও তারা অনেকটা সরে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি কনফার্ম করেছে চিনের তরফে। সীমান্ত থেকে চিনের বাহিনী সরে যাওয়া রীতিমত ভারতের বড়সড় কূটনৈতিক জয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ নিয়ে গত ১৫ জুন তারিখ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনী। যদিও মে মাসে ভারতীয় ভুখন্ডের ওই সমস্ত এলাকা নিজেদের বলে দাবি সেগুলির দখল নিয়ে নেয়। এরপর থেকে সমস্যা সমাধানে দফায় দফায় চলছিল আলোচনা।

৩০ জুন দু’দেশের সেনার মধ্যে প্রায় ১০ ঘণ্টা কোর কমান্ডার স্তরে আলোচনা চলে। ভারত বলে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আগের পরিস্থিতি বহাল রাখতে হবে, চিনা সেনাকে জরুরি ভিত্তিতে গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো এবং অন্যান্য এলাকা থেকে পিছিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এরপরেও এলাকা ছাড়েনি চিন।

একদিকে আলোচনা অন্যদিকে ক্রমশ ভারতের ভূখন্ডে নিজেদের মাটি শক্ত করতে চাইছিল চিন। নানা বিতর্কের মাঝে চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে টানা ২ ঘণ্টা ভিডিও কলে কথা বলেন দোভাল। ঠিক তারপরেই সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং।

এরপর সোমবারই, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবর এসেছে। চিনের সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে বলে আগেই খবর এসেছে। এবার সেই কথা স্বীকার করেছে চিন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ