নয়াদিল্লি: চোখ বাঁধা পিছনের দিকে টেনে বাঁধা রয়েছে দুটি হাত। চারপাশে পাকিস্তানি আর্মি অফিসার। তারা যখন প্রশ্ন করলেন কোন বিমান আপনি চালাচ্ছিলেন? কিংবা আপনাদের প্ল্যান কী ছিল? সোজাসুজি উত্তর দিলেন “অাই অ্যাম নট সাপোজ টু টেল ইয়ু দ্যাট।”

সোশ্যাল মিডিয়া এবং দেশে বিদেশের সংবাদমাধ্যমের দৌলতে ভারতীয় বায়ু সেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের এই ছবি ভারতবাসীর মনে গেঁথে গিয়েছে। পাকিস্তানি বিমান ধ্বংস করে সে দেশের আর্মির হাতে ধরা পড়ার পর দেশে ফিরে আসা অভিনন্দনকে যুদ্ধকালীন বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য “বীর চক্র” পদক দেওয়ার জন্য মনোনিত করল।১৪ ফেব্রয়ারি পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গীর আত্মঘাতী হামলাতে কাশ্মীরের পুলওয়ামা সেক্টরে প্রাণ হারান ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। ১২ দিনের মাথায় এই ঘটনার যোগ্য জবাব দিয়ে পাকিস্তানের বালাকোট সেক্টরে এয়ার স্ট্রাইক করে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গী ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ু সেনা। পরের দিন ভারতের নৌসেরা সেক্টরে ঢোকার চেষ্টা করে পাক বায়ু সেনার বিমান।
নৌসেরা সেক্টরে ঢুকে পড়া পাকিস্তানী বায়ুসেনার এফ১৬ বিমানকে তাড়া করে ধ্বংস করে ভারতের বায়ুসেনা৷ পাকিস্তানের বায়ুসেনার কয়েকটি এফ১৬ বিমান ভারতের নৌসেরা সেক্টরে ঢোকে বোমা ফেলার চেষ্টা করে৷ ভারতের দু’টি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানী এফ১৬-কে তাড়া করে৷

পাকিস্তানের একটি এফ১৬ বিমানকে ধ্বংস করে দিলেও পরে একটি মিগ২১ ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের সাত কিলোমিটার ভেতরে৷ পাকিস্তানের হাতে বন্দি হন ভারতের এক উইং কমান্ডার অভিনন্দন৷ পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সহ সাধারণের টুইটারে এরপর একাধিক ভিডিও এবং ছবি পোস্ট হতে থাকে৷ যেখানে দেখা যায় অভিনন্দনকে মারধোর করা হচ্ছে, তার গাল বেয়ে রক্ত পড়ছে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি দেশের বিরুদ্ধে কোন তথ্য দিচ্ছেন না পাক আর্মি অফিসারদের। এরপর তিনদিনের মাথায় আর্ন্তজাতিক ভিয়েনা চুক্তির নিয়ম মেনে অভিনন্দনকে ভারতের হাতে তুলে দেয় পাকিস্তান।

ভারতের এই জাতীয় নায়ককেই এবার “বীর চক্র”-এর জন্য মনোনিত করেছে ভারতীয় বায়ু সেনা। এছাড়াও অভিনন্দন এবং বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকে অংশ নেওয়া মিরাজ ২০০০ এর ১২ জন পাইলটকে ” বায়ু সেনা মেডেল”-এর জন্য মনোনিত করেছে ভারতীয় বায়ু সেনা।