নয়াদিল্লি : আরও শক্তিশালী বায়ুসেনা। এবার ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে অত্যাধুনিক সেনা কপ্টার চিনুক ও অ্যাপাচে এসে পৌঁছল। এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে ও সিএইচ-৪৭ এফ(আই) মিলিটারি কপ্টার এবার ব্যবহার করবে বায়ুসেনা। শুক্রবার মোট ২২টি অ্যাপাচের মধ্যে শেষ পাঁচটি এসে পৌঁছেছে। বোয়িং ভারতীয় সেনার হাতে এই কপ্টারগুলি তুলে দেয়।

এবছরের মার্চ মাসের শুরুতেই ১৫টি চিনুকের শেষ পাঁচটি তুলে দেওয়া হয় ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে। শুক্রবার সেগুলি এসে পৌঁছয় হিন্ডানে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। চিনুক কপ্টারগুলি ভারি ওজন বহনে সক্ষম। যে ১৭টি দেশের হাতে অ্যাপাচে ও চিনুক তুলে দেওয়া হবে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত। অ্যাটাক হেলিকপ্টার হিসেবে অ্যাপাচের জুড়ি মেলা ভার।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটি দেশ অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। ভারতীয় বায়ুসেনা মোট ২২টি অ্যাপাচের বরাত দিয়েছিল।

অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে মার্কিন সেনাবাহিনী। এছাড়া জাপান, ইজরায়েল, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর এবং আরব আমীরাতও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকে। এবারও ভারতও সেই তালিকায় সামিল হল৷ জানা গিয়েছে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান হয় এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের৷ বলাই বাহুল্য সফলও হয় সেই উড়ান৷

বলা হয় বোয়িং এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি গার্ডিয়ান অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিশ্বের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক কপ্টারগুলির মধ্যে অন্যতম৷ ২০১৯ সালের ২৭শে জুলাই ভারত প্রথম হাতে পায় অ্যাপাচি হেলিকপ্টার৷ যে কোনও আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে অ্যাপাচে। অ্যাপাচের নেভিগেশন, রাতের অন্ধকারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার ক্ষমতা, সেন্সর যথেষ্ট শক্তিশালী।

অন্যদিকে, ২০টি দেশ চিনুক ব্যবহার করে। সর্বাধিক ওজন বহনে সক্ষম এই কপ্টার যে কোনও বায়ুসেনার শক্তি। চিনুকও যে কোনও ধরণের প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম। অতি উচ্চতাতেও সমান পারদর্শীতায় কাজ করে যায় চিনুক কপ্টার।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বোয়িং সংস্থাকে এই কপ্টার তৈরির বরাত দেয়। চিনুক কপ্টারগুলিতে রয়েছে ডিজিটাল অটোমেটিক ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম, মেশিন এয়ারপ্রেম, কমন এভিওনিক্স আর্কিটেকচার সিস্টেম।

এই চিনুক কপ্টারগুলিকে জাতীয় সম্পত্তি বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া। নয়াদিল্লিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ছটি অ্যাপাচে কপ্টার পাওয়ার চুক্তি হয়। ইতিমধ্যেই ভারত চিন সীমান্ত সমস্যার জেরে বায়ুসেনা সীমান্তে মোতায়েন করেছে চিনুক, অ্যাপাচের মত কপ্টারগুলিকে।

রাতের টহলদারির সময়েও এগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। লাদাখ জুড়ে চিন সীমান্তের গা ঘেঁষে উড়েছে মিগ-২৯ ফাইটার জেট, অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই বায়ুসেনার এই টহলদারি বলে জানা গিয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ