দেবময় ঘোষ: আমেরিকার একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কিছুদিন আগেই ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন, ভারতের মিথ্যা ধরা পড়ে গিয়েছে৷ ভারতীয় বিমানবাহিনী কোনও F-16 বিমানকে ধ্বংস করতে পারেনি৷ যুদ্ধ জিগির তোলা মোদী সরকার নির্বাচনে ফায়দা তোলার জন্যই অপপ্রচার শুরু করেছে৷

যে রিপোর্টের ভিত্তিতে ইমরান উল্লসিত হয়ে উঠেছিলেন সেখানে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের সবকটি F-16 বিমানই আস্ত রয়েছে৷ আমেরিকার আধিকারিকরা তা এক-এক করে তা গুনে দেখেছে৷ সুতরাং, ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৭ ফেব্রুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরের নৌসেরা সেক্টরে পাক বিমান হানার জবাব দিতে গিয়ে F-16 ধ্বসের যে দাবি করেছে তার সত্যতা নেই৷ তবে হ্যাঁ, পাকিস্তানের হামলায় F-16 ব্যবহার হয়েছিল তার প্রমান পাওয়া গিয়েছে৷

আমেরিকার ম্যাগাজিনের রিপোর্ট পাওয়ার পর ইমরান যতটা উল্লসিত হয়েছিল, সোমবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাংবাদিক বৈঠকের পর ততটাই বিমর্শ হবেন৷ রেডিও ইলেকট্রনিক সিগনেচার দেখিয়ে এদিন বিমানবাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর পরিষ্কার করে দিয়েছেন, উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের MiG-21 Bison বিমানই ধ্বংস করেছে F-16 -কে৷

এছাড়া, এটাও প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে অস্ত্র চুক্তি ভেঙে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে F-16 ব্যবহার করেছে৷ ইমরান খান এবং আমেরিকান ম্যাগাজিনকে অকাট্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী৷ ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, আপাতত পাক সেনা বা পাক সরকার বুঝে গিয়েছে সাজানো মিথ্যা কথা ধোপে টিকবে না৷

বড় প্রশ্ন কেন আমেরিকার ম্যাগাজিন F-16 এর পতন মানতে চায় না৷ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই প্রশ্নের যুক্তিগ্রাহ্য জবাব দিয়েছেন৷ মেজর গৌরব আর্য সম্প্রতি ট্যুইট করে বলেছেন, সারা বিশ্বের অস্ত্রবাজারে আমেরিকা নিজের নাম খারাপ করতে চায় না৷ রাশিয়ার MiG-21 Bison ধারে ভারে পাকিস্তানের F-16 এর তুলনাতেই আসে না৷ কিন্তু সেই বিমান আধুনিক F-16 কে ধ্বংস করেছে, এই সত্য আমেরিকা স্বীকার করবে না – এটাই স্বাভাবিক৷

এদিন সাংবাদির সম্মেলন করে এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর রেডিও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের ব়্যাডার ইমেজ দেখিয়ে প্রমাণ করেন কীভাবে অভিনন্দন পাক আকাশে F-16 কে ধ্বংস করেছে৷ এরপর অভিনন্দনের বিমান পাক মিসাইলের আঘাতে পাক ভূখণ্ডে পড়ে৷ অভিনন্দন প্যারাসুটের সাহায্যে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর ভূখণ্ডে অবতরণ করলে পাক সেনার থাকে হেপাজতে নেয়৷

অন্যদিকে F-16 এর পাইলটও পাক ভূখণ্ডে প্যারাসুটের সাহায্যে অবতরণ করে৷ তাকে স্তানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ প্রাথমিকভাবে, পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর দুই ভারতীয় পাইলটের কথা সাংবাদিক সম্মেলনে স্বীকার করেন৷ তিনি বলেছিলেন এক পাইলটকে পাক সেনা ঘরে রেখেছে এবং অন্যজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে৷

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও দুই ভারতীয় পাইলট পাকড়ও করার কথা ফলাও করে প্রচার মাধ্যমে ঘোষণা করে৷ কিন্তু, উইং কমান্ডার অভিনন্দন বাদ দিয়ে কোনও পাইলট পাকিস্তানের হেপাজতে ছিল না৷ সেক্ষেত্রে হাসপাতালে পাঠানো পাইলট যে ভারতীয় নয় এবং তিনি যে পাক F-16 এর পাইলট তা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়৷

পাক বিমান নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অ্যামরাম মিসাইল দিয়ে আঘাত হানতে থাকে৷ তা শুধু মাত্র F-16 থেকেই আঘাত হানা যায়৷ ওই মিসাইলের ভেঙে যাওয়া অংশ আগেই গ্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা৷ ওই তথ্যের কেনও জবাব এতদিনেও দিতে পারেনি পাক সেনা বা বিমানবাহিনী৷ বরং প্রমাণ হয়ে গিয়ছে F-16 ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল – যা আমেরিকার থেকে পাকিস্তান নিয়েছিল শুধু সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য৷