নয়াদিল্লি: অভিনন্দনই গুলি করে নামিয়েছিল পাকিস্তানের F-16 যুদ্ধবিমান। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানাল বায়ুসেনা। পাকিস্তানের সব দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে এয়ার ফোর্সের তরফে সাফ জানানো হল যে বায়ুসেনার কাছে F-16 ধ্বংস করার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

F-16 নিয়ে গত কয়েকদিনে ফের শিরোনামে উঠে আসে ২৭ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান আকাশ-যুদ্ধ। ওই দিন বালাকোট স্ট্রাইকের প্রতিশোধ নিতে আসে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। সেই আকাশ-যুদ্ধে ভারতের এয়ার ফোর্সের মিসাইলে পাকিস্তানের F-16 ধ্বংস হয়েছে কিনা, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: ভোটে জিততে F-16 নিয়ে মিথ্যা দাবি করছে মোদী সরকার, বিস্ফোরক ইমরান

সম্প্রতি মার্কিন একটি পত্রিকার রিপোর্টে দাবি করা হয় যে পাকিস্তানের সবকটি F-16 অক্ষত আছে। কোনোটিরই কোনও ক্ষতি হয়নি। অর্থাৎ ভারতের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে ওই রিপোর্ট। এরপরই প্রতিক্রিয়া দেয় বায়ুসেনা।

এদিন এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুর জানান, ভারতের কাছে রেডিও ট্রান্সমিশনের প্রমাণ আছে, যা থেকে F-16 ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে। তিন বলেন, উইং কমান্ডার অভিনন্দনই গুলি করে নামিয়েছিল পাকিস্তানের F-16 বিমান।

আরও পড়ুন: রেডিও সিগন্যালের তথ্য দিয়ে F-16 ধ্বংস করার প্রমাণ দিল বায়ুসেনা

সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে বায়ুসেনার তরফে।

সূত্র বলছে, রেডিও ট্রান্সমিশন কলে রেসপন্স মেলেনি ওই F-16-এর। এয়ার ফোর্স বলছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৭-৮ কিলোমিটার ভিতরে ওই F-16 গুঁড়িয়ে দেন অভিনন্দন। ৭-৮ সেকেন্ডের মধ্যেই রেডিও সিগন্যাল থকে উধাও হয়ে যায় সেটি। একটি

আরও জানা গিয়েছে যে পাকিস্তানের সবজকোটে পাক পাইলটের প্যারাশ্যুটও দেখা গিয়েছিল। আর অভিনন্দনের প্যারাশ্যুট গিয়ে পড়ে তান্ডারে। দুটি জায়গার মধ্যে ৫-৬ কিলোমিটারের তফাৎ রয়েছে।

সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের হাতে থাকা উইয়্যারলেসের তথ্য বলছে, পাকিস্তানের ৭ নম্বর নর্দান লাইট ইনফ্যান্টরিতে সেইসময় বলা হচ্ছিল, ‘এটা শত্রু এয়ারক্রাফট। ওদের দু’জন পাইলটকে ধরা হয়েছে।’ ওইদিনই আরও একটা কলে পাক সেনার বলে, ‘দু’জনের মধ্যে একজন পাইলট আমাদের সঙ্গে আছে আর একজন মুজাহিদীন ব্যাটেলিয়নের সঙ্গে আছে।’

এরপর বায়ুসেনা জানতে পারে অভিনন্দনকে ধরে ফেলেছে পাক সেনা। পাক সেনা উইয়্যারলেসে বলে, ‘একজন পাইলটের নাম অভিনন্দন। আরও একজনকে জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ সুতরাং বায়ুসেনার তথ্য অনুযায়ী, পাক সেনাই বলেছিল যে দু’জন পাইলট ছিল। অর্থাৎ তাদের মধ্যে একজন যদি অভিনন্দন হন, তাহলে অন্যজন পাকিস্তানের সেই F-16-এর পাইলট।