হায়দরাবাদ: সম্প্রতি আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সূত্রে এক তরুণকে গ্রেফতার করে হায়দারবাদ পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)৷ হিন্দু এই তরুণ ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছিল৷ ২৪ বছরের সেই কোনাকাল্লা সুব্রহ্মণ্যম ওরফে ওমর তার জবানবন্দিতে জানিয়েছে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে সে অন্যান্য তরুণদের আইএসে যোগদানের জন্য প্ররোচিত করত৷ এই খবর দিয়েছে ‘নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’৷

টানা পাঁচ দিনের জেরায় তদন্তকারীরা ওমরের কাছ থেকে আরও জানতে পেরেছেন, শুধু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং নয়৷ আইএসপন্থীদের দঙ্গলে ভিড়ে সে কাশ্মীরের জঙ্গিদের জন্য টাকা তোলার কাজও করত৷ গত মে মাসে শ্রীনগরের ইসলামিক গ্লোবাল স্কুলের জনৈক মহম্মদ আমির তাকে জানায় যে, ওমরের সঙ্গে মিলে টাকা তোলার জন্য সে নিজে হায়দরাবাদে যাবে৷ সেই সময়েই আমির কোনাকাল্লা সুব্রহ্মণ্যম ওরফে ওমরকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে জাকির নায়েক, ফৈয়াজ সৈয়দ, আবু জাহিদ ইয়ামির, কারি শোয়েব আহমেদ, মুফতি মেঙ্ক, আরশাদ বশির মাদানি, মহম্মদ আলি মির্জা-র মতো ‘জ্ঞানীগুণী’ ব্যক্তিদের বয়ান শোনার পরামর্শ দেয়৷ তখন থেকেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আইএসআইএসের জন্য প্রচারের কাজও শুরু করে ওমর৷ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যোগাযোগের মাধ্যমে অন্য অনেক তরুণের মগজ ধোলাই করতে থাকে সে৷ ভারতের মাটিতে মুসলমানরা যে কত ‘নির্যাতিত’ ও ‘লাঞ্ছিত’ হচ্ছে, সে ব্যাপারে সোশ্যাল সাইটে জিগির তোলাই ছিল ধর্মান্তরিত কোনাকাল্লা সুব্রহ্মণ্যমের দায়িত্ব৷

ওমরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রথমে অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল শুকুরের দেওয়া তিনটি বই পাঠ করে সে ধর্মান্তরিত হয়৷ তার মধ্যে ইংরেজিতে হজরত মহম্মদের জীবনী ছিল৷ বাকি দুটি বই ছিল তেলুগু ভাষায় লেখা৷

জেরায় ওমর বলেছে, ‘‘এর পরেই আমি মসুলিপট্টনমের তবলিঘ জামাত মসজিদে রোজ নমাজ পড়তে যেতাম৷ পরে গুজরাতের সিদ্ধিপুরের তবলিঘ জামাতে যাই৷ সেখানে হায়দরাবাদের জনৈক মহম্মদ শফির সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়৷ এর পর সিদ্ধিপুরের কাছেই খলি নামে এক গ্রামে দারুল-উল-উলুম মাদ্রাসায় টানা ন’ মাস তালিমে ছিলাম৷’’

ওমরের মোবাইল ফোন ঘেঁটে সিটের তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা তার ফেসবুক মেসেঞ্জারের যাবতীয় তথ্য বের করেছেন৷ তা থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ৭ জুন জঙ্গি নেতা মওলানা মাসুদ আজহারকে নিয়ে সে পাকিস্তানের জনৈক ইসমাইলের সঙ্গে কথা বলেছিল৷ এছাড়া গত বছরেরই ২০ ডিসেম্বর সে পাকিস্তানের জনৈক আবু মহম্মদের সঙ্গেও চ্যাট করে৷ এ বছরের তেসরা মার্চ ওমর আইএসের ভারতীয় মডিউলের দায়িত্বে থাকা আবু কাহাফা আল-হিন্দির কাছ থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপে একটি পিডিএফ ফাইল পায়৷ তাতে পেট্রল বোমা কীভাবে বানাতে হয় এবং ফাটাতে হয়, তার প্রণালী দেওয়া ছিল৷ পরে ‘আরও কার্যকর’ ফরমুলা আল-হিন্দি তাকে পাঠাবে বলেও জানিয়েছিল৷ কিন্তু তার আগেই কোনাকাল্লা সুব্রহ্মণ্যম ওরফে ওমর সিটের হাতে ধরা পড়ে যায়৷
প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে ‘ওপেন’ পত্রিকা হায়দরাবাদে আইএসের জাল বিস্তার নিয়ে একটি অন্তর্তদন্ত চালায়৷ তার কিছু দিনের মধ্যেই ওমরকে গ্রেফতার করে সিট৷