শারজা: নজির গড়ার ম্যাচটা হয়তো দ্রুত ভুলতে চাইবেন তিনি। দ্রোগবা, মেসিদের টপকে বিশ্ব ফুটবলে সক্রিয় ফুটবলার হিসেবে সর্বাধিক গোলের নিরীখে দ্বিতীয়স্থানে তাঁর নাম। দেশের জার্সি গায়ে এদিন আবার গড়ে ফেললেন আরও একটি নজির। ১০৭ ম্যাচ খেলে কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়ার সঙ্গে বসে গেলেন একাসনে। এই টুর্নামেন্টেই ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল ‘পাহাড়ী বিছে’কে। কিন্তু ভারতের নক-আউটের আশা শেষ হতেই ক্ষীণ হল সেই স্বপ্ন। স্বভাবতই হতাশ সুনীল ছেত্রী।

ম্যাচ শেষে প্রিয় হেডস্যার স্টিফেন কনস্ট্যান্টাইনের দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনায় যেন আরেকটু ভেঙে পড়লেন ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয়। ম্যাচ শেষে সদ্য প্রাক্তন হওয়া কনস্ট্যানটাইনকে নিয়ে সুনীল জানালেন, ‘ভারতীয় ফুটবলকে অনেক কিছু দিয়েছেন স্টিফেন। বহু ফুটবলারকে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ করে দিয়েছেন উনি। টুর্নামেন্টে ছেলেদের দুরন্ত ফুটবলের পিছনে ওনার অবদানকে কুর্নিশ জানাই। আগামীর জন্য শুভ কামনা রইল।’

তবে ফুটবলারদের প্রশংসা করলেও বাহরিন ম্যাচে দলের রণনীতি নিয়ে সুর চড়ালেন ছেত্রী। ম্যাচ শেষে একপ্রকার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে জানালেন, ‘আমি ভীষণই হতাশ। আজ আমরা থাইল্যান্ড-আমিরশাহি ম্যাচের মত খেলতে পারিনি। এমন ম্যাচে নিজেদের একশো শতাংশ উজাড় করে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। আমরা রক্ষণ দুর্দান্ত সামলেছি। কিন্তু অতিরিক্ত রক্ষনাত্মক নীতিই কাল হল আমাদের। নিজেদের পায়ে অনেক বেশি বল রেখে খেলা উচিৎ ছিল আমাদের।’

ড্রয়ের মানসিকতাই কি ডোবাল ছেলেদের। এই প্রসঙ্গে হতাশ সুনীলের সংযোজন, ‘আমরা ড্রয়ের জন্য খেলিনি। কিন্তু কোথাও যেন ছেলেদের মধ্যে সেই মানসিকতা প্রকট হয়ে উঠল। প্রতিপক্ষের সব ক্রস নিজেদের বক্সে ডেকে আনলে কোনও না কোনও ভুল হতে বাধ্য। সুতরাং যা হওয়ার তাই হয়েছে। ম্যাচ জেতার জন্য আমাদের আরও সাহসী হওয়া প্রয়োজন ছিল।’ তা সত্ত্বেও দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার দাবিদার ছিল, জানাতে ভুললেন না দেশের জার্সি গায়ে ৬৭ গোলের মালিক।

গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার পর কি ক্লান্তিতে ভুগছিল ছেলেরা। প্রশ্নের উত্তরে ম্যাচ হারের পর ইতিবাচক সুনীল জানান, ‘এটা সাইকোলজিক্যালও বটে। এমন ম্যাচে ৯০ মিনিট ধরে রক্ষণ আগলে যাওয়াও মুখের কথা নয়। সুতরাং আরব আমিরশাহি ম্যাচের মত আমাদের আক্রমণাত্মক হওয়া উচিৎ ছিল।’

আর যাওয়ার বেলায় সারা ম্যাচে দু থেকে তিনটে হাফ চান্স পাওয়া প্রসঙ্গে ছেত্রী জানিয়ে গেলেন, ‘আমাদের আক্রমণে না যাওয়ার কারণেই ম্যাচে জাঁকিয়ে বসার সুযোগ পেল ওরা। ম্যাচ থেকে শিক্ষনীয় বিষয় এটাই। আশা করি ভবিষ্যতে এই ভুল থেকে শিক্ষা নেবে দল।’