বরাবর তিনি প্রতিবাদী। এক সময় পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আবার কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাট্য আকাদেমি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচন ঘিরে সন্ত্রাস তাঁর ভাল ভালছে না মোটেই। জানালেন বিশিষ্ট নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে প্রশ্নময় কথোপকথনে অরুণাভ রাহারায়।

প্রশ্ন: গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিতে না-পারা নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় বুদ্ধিজীবী মঞ্চের পক্ষ থেকে আপনি এবং আরও কয়েক জন প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এবারও কি সে রকম কিছুর আয়োজন করেছেন?

বিভাস চক্রবর্তী: আমাদের যে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী বুদ্ধিজীবী মঞ্চ গঠিত হয়েছিল, বর্তমানে আমি তার সভাপতি। গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় মনোনয়ন পত্র দাখিল থেকে যে সন্ত্রাস প্রত্যক্ষ করেছি প্রেসক্লাবে সভা করে আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এই নির্বাচনের আগে আমরা আমাদের মতো করে দাবি পেশ করব ভেবেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয়ে উঠল না।

প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বেশ কিছু বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ বলে চিহ্ণিত করেছে। এতে নাকি রাজ্যের লজ্জা হয়েছে। বিদ্বজনদের কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে গিয়েছিলেন।

বিভাস চক্রবর্তী: তাঁদের সঙ্গে আমাদের বুদ্ধিজীবী মঞ্চের কোনও যোগাযোগ নেই।

প্রশ্ন: আপনি তো নাট্য আকাদেমির উপদেশক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এবং নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সেটা কি শাসকের প্রতি ক্ষোভ থেকে?

বিভাস চক্রবর্তী: নাট্য আকাদেমি থেকে পদত্যাগের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক ক্ষীণ। আমি কোনও সদর্থক কাজ করতে পারছিলাম না বলে একজন থিয়েটারকর্মী হিসেবে মনে হয়েছিল সেখানে থাকার কোনও মানে হয় না!

প্রশ্ন: শঙ্খ ঘোষ থেকে নাসিরুদ্দিন– অনেকেই বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেছেন। আপনি কি শঙ্খবাবুদের সমর্থন করেন?

বিভাস চক্রবর্তী: ছোটবেলা থেকে যে পারিবারিক ঐতিহ্য বড় হয়েছি, তাতে সাম্প্রদায়িকতার কথা কোনও দিন ভাবনাতেও আসে না আমার। সাম্প্রদায়িকাতাকে কোনও দিনই সমর্থন করি না। কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি বিশেষ দলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচার করা আমাদের মঞ্চের কাজ নয়।

প্রশ্ন: যে রাজনৈতিক দলের কথা উঠে এলো, তাঁরা ক্ষমতায় এলে বাঙলায় NRC হবে। সেই দলের নির্বাচনী প্রচারে এমন কথাই বলা হয়েছে। কী বলবেন?

বিভাস চক্রবর্তী: আগে থেকেই কেন ধরে নিচ্ছি ওরা আসছে । আমি বহুদিন ধরেই অসমের বঙগাল-খেদা NRC-র বিরুদ্ধে কথা বলছি, লিখছি। আমি অসমের সিলেটি বাঙালি ছিলাম। ১৯৪৭ সালে আমরা পূর্ব পাকিস্তানি। স্বাধীনতা মানে আমাদের কাছে অভিশাপ।

প্রশ্ন: রাজ্যে চতুর্থ দফার ভোট হয়ে গেল। হিংসা থামেনি। কী বলবেন?

বিভাস চক্রবর্তী: আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এমন জায়গায় এসে ঠেকেছে এবং এই নির্বাচনে যা হচ্ছে– সেসব নিয়ে আলোচনা করাই উচিত নয়। গণতন্ত্রের হিংসাত্মক রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। তার বিকৃত রূপ দেখতে পাচ্ছি। ফলে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন নিয়ে কোনও আলোচনাই করতে রাজি নই আমি। এই সন্ত্রাসী নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করব না বলে ঠিক করেছি। যেখানে টিয়ারুল আবুল কালামকে ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়ে নিহত হতে হয়, যেখানে এক গৃহবধূ কংগেসকে ভোট দিয়েছে বলে বাড়ির লোকজন তাঁর ওপর অত্যাচার করে এবং মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেয় সেখানে আমি কেন ভোট দিতে যাব? যাব না। নির্বাচনে অংশ নিলে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এই নির্বাচনকে আমি সেই বৈধতা দিতে পারব না।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV