নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পঞ্চম দফা পেরিয়ে ষষ্ঠ দফায় পা রাখতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন৷ রাজ্যেও সাত দফার এই ভোট নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে৷ আর উত্তেজনার পারদ ক্রমশই ওপরের দিকে চড়ছে নির্বাচনী প্রচারের হাত ধরেও৷ রাজ্যে একের পর এক নির্বাচনী প্রচার সেরে যাচ্ছেন অন্য দলের নেতা-মন্ত্রীরা৷

শুক্রবার তমলুক থেকে তমলুকের বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্করের সমর্থনে ময়নার দেউলিমাঠে জনসভা করলেনন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। এবং এএই জনসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, ‘দিদি আপনার ছোট্ট ভাই আছি। ত্রিপুরা থেকে বাংলাতে সভা করার জন্য আমি এসেছিলাম। তখন বর্ধমানে আমার দুটি সভা বন্ধ করে দিয়েছেন। অনুমতি দেননি। একটা অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর একটি রাজ্যে আসছে, কেন তাঁকে অনুমতি দিচ্ছেন না। আমার জনসভা বাতিল করে, এই বাংলার মানুষকে আটকাতে পারবেন না। আমার জনসভা যত বন্ধ করবেন, এই বাংলার বাঁধ তত ভাঙবে। আর আপনাকে চিরতরে বিদায় করবে। তার জন্য বাংলার মানুষ তৈরি হয়ে বসে রয়েছে। আগামী ২৩ মে যখন ফলাফল আসবে, তখন দিদির জন্য আমাকে ট্যাবলেট কিনে আনতে হবে। দিদির মাথা ব্যাথা হবে আমি জানি। মাথা ব্যাথা দূর করতে আমি মোদী ট্যাবলেট নিয়ে আসব।’

তবে শুধু কটাক্ষই নয়, তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের দল পরিবর্তন নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এদিনের জনসভা থেকে৷ তিনি বলেন, ‘দিদি ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তন করেছিল। আমরা ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় পরিবর্তন করেছি। ত্রিপুরাতে গুণ্ডারাজ, মাফিয়ারাজ, ক্যাডাররাজ নেই। দিদি পরিবর্তনের পর বামেদের মাফিয়া ও ক্যাডারদের আঁচলে করে সঙ্গে এনেছেন। সেগুলি পাশাপাশি সিন্ডিকেট রাজ ও ভাতিজা রাজ আমদানি করেছেন। এই জেলাতে অধিকারী ব্রাদার্স জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করেছে। ২৩ তারিখ ফলাফল ঘোষণা হওয়ার ১০০ জনের বেশি বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দবে। তখন দেখবেন আপনার শুভেন্দুবাবু চলে যাবেন।’

উল্লেখ্য ষষ্ঠদফায় রাজ্যের যে ১২ লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে, তমলুক তার মধ্যে অন্যতম৷ এই তমলুক থেকেই তৃণমূলের দিব্যেন্দু অধিকারীর বিপরীতে বিজেপির প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন সিদ্ধার্থ নস্কর৷