স্টাফ রিপোর্টার, বসিরহাট: আলোচনা চলছিল৷ সেখানেই বচসা৷ কিন্তু পরিণতি যে এমন হতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবেননি সরকারি আধিকারিক৷ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বারেবারে মনে পড়ছে সেই স্মৃতি৷ যা ভেবেই ডুকরে উঠছেন সন্দেশখালির বিডিএ কৌশিক ভট্টাচার্য৷

বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্দেশখালির এক পঞ্চায়েত প্রধান-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা আলোচনার জন্য সন্দেশখালির বিডিও কৌশিক ভট্টাচার্যের অফিসে যায়৷ অভিযোগ, আলোচনা চলাকালীন পঞ্চায়েত সদস্যরা হঠাৎই বিডিওকে মারধর শুরু করে৷ অফিসের কর্মীরা বিডিও-কে বাঁচাতে এলে তাঁদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়। বিডিও-সহ ৬ জন সরকারি কর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বিডিও অফিসের আসবাবপত্রও।

আরও পড়ুন: কয়লাখনির দখলদারি নিয়ে গোষ্ঠী সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে বোমা হাতে তাণ্ডব

এখানেই শেষ নয়৷ বচসা, মারামারির প্রমাণ লোপাটের জন্য বিজিও দফতরের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয়৷ খুলে দিতে বাধ্য করা হয় ওই ক্যামেরা সংক্রান্ত হার্ড ডিস্কটিও৷ উত্তপ্ত সেই পরিস্থিতির খবর যায় বিডিও দফতরে৷ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

এই ঘটনায় শঙ্কিত বিডিও কৌশিক ভট্টাচার্য৷ তাঁকে ও সহ-কর্মীদের ভরতি করা হয় বসিরহাট হাসপাতালে৷ ঘটনার কয়েকঘন্টা বাদ আহত বিডিও-র আক্ষেপ, ‘‘মানুষের উপকার করতে এসে এই উপহার পেলাম৷’’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে কৌশিক ভট্টাচার্যকে সাংঘাতিক মারা হয়েছে৷ মাথায় এবং বুকে আঘাত পেয়েছেন তিনি৷ তাঁর শরীরজুড়ে যন্ত্রণা রয়েছে৷ কানে গভীর ক্ষতের চিকিৎসা শুরু হয়েছে৷

লোকসভা ভোটে বিপর্যয় হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের৷ দলের ময়না তদন্তে উঠে আসে পঞ্চায়েতের পদাধিকারীদের একাংশের দুর্নীতি ও নিচু তলার কর্মীদের অহংবোধই এই ভারডুবির কারণ৷ সন্দেশখালির ঘটনাতেও বিবাদের মূলে শাসক দলের দুর্নীতি৷ সূত্রের খবর, কিছু দিন ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের নেক নজরে পড়েছিলেন বিডিও৷ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নেওয়া হলেও সেই টাকার ঘর পাননি পঞ্চায়েতের গরিব মানুষগুলে। তারই প্রতিবাদ করেছিলেন কৌশইক ভট্টাচার্য৷ তার জেরেই এই হামলা৷

আরও পড়ুন: আস্ত একটা ‘প্রেমের মন্দির’ বানিয়েছেন বারুইপুরের দেবদাস

এর আগে পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ এবার উঠল বিডিওকে মারধরের অভিযোগ৷ কর্মরত অবস্থায় সরকারি কর্মী, আধিকারীকদের আক্রমণ দণ্ডনীয় অুরাধ৷ কিন্তু আইকে বুড়ো আঙাল দেখিয়েই চলছে এইসব কাজ৷ ঘটনায় শঙ্কিত বিডিও দফতরের অন্যন্য কর্মীরা৷ তাদের প্রশ্ন যেকোন সময় হতে পারে এই ঘটনা৷ জীবনের নিরাপত্তা কোথায় সরকারি কাজ করতে এসে৷

যদিও মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো৷ নীরব অভিযুক্ত সন্দেশখালির পঞ্চায়েত প্রধান হাজি সিদ্দিক মোল্লা৷ অভিযুক্তরা নীরব৷ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আতঙ্কের দিনযাপন বিডিও-র৷ এতকিছুর পরেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।