নয়াদিল্লি: কোনও সমালোচনা নয়। বরং সুনীলদের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পূর্বতন কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের প্রশংসা শোনা গেল ইগর স্টিমাচের গলায়। পাশাপাশি ভারত এখন বিশ্ব-ফুটবলে ঘুমন্ত দৈত্য, তাই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করতে পিছপা হননি তিনি, সাফ জানিয়ে দিলেন ক্রোয়েশিয়ান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে স্টিমাচ জানান, ‘কয়েকদিন হল কাজ শুরু করেছি। প্রথম কয়েকদিনের অভিজ্ঞতা ভীষণই ভালো। আমি চ্যালেঞ্জটা গ্রহন করেছি কারণ আমি জানি ভারত বিশ্ব-ফুটবলে এখন ঘুমন্ত দৈত্য। পাশাপাশি জাতীয় দলে খেলার দাবিদার হিসেবে উঠে আসছে প্রচুর তরুণ ফুটবলার।’ স্টিমাচ আরও জানান, শুধুমাত্র সিনিয়র দলের হয়ে কাজ করাই নয়, একইসঙ্গে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি সাধনে দেশের বিভিন্ন ক্লাবে ও কোচেদের সঙ্গে নিয়মিত সময় ব্যবধানে আলোচনায় বসবেন তিনি।

ক্লাবগুলোর সঙ্গে ফেডারেশনের মধ্যে সুসম্পর্ক দেশের ফুটবলের উন্নতি সাধনে বড় ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে সুনীলদের নতুন ক্রোট কোচের সংযোজন, ‘সিনিয়র দলের জন্য ফুটবলার নির্বাচন করে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া আমার একমাত্র কাজ নয়। পাশাপাশি ক্লাবগুলোতে গিয়ে সেখানকার কোচেদের সঙ্গে সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একবার আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবলের নতুন রূপরেখা তৈরি করাই আমার লক্ষ্য।’

এরপর সুনীলদের পূর্বতন ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বছর একান্নর স্টিমাচ জানান, ‘ভারতীয় ফুটবলে কনস্ট্যানটাইনের অবদান অস্বীকার করার নয়। কনস্ট্যানটাইনের প্রশিক্ষণে ভারতের ম্যাচ আমি দেখেছি। ফুটবলাররা তাঁর নীতি দারুণভাবে রপ্ত করেছিল। তবে আমার লক্ষ্য থাকবে দলকে আরও বিভিন্ন সিস্টেমে  অভ্যস্ত করে তোলা। রাতারাতি আমার পক্ষে আমুল পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ভালো ফলের জন্য চাই কঠোর পরিশ্রম আর খানিকটা ভাগ্যের সহায়তা।’

স্টিমাচের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের নব-নিযুক্ত টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আইজ্যাক দরু। অনুষ্ঠানে তিনি ন্যাশনাল গেম মডেলে ভারতীয় ফুটবলে উন্নতি করার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, ‘আমাদের ন্যাশনাল গেম মডেল বিল্ড-আপ করা দরকার। যেখানে ডিফেন্সিভ ফুটবল ও অ্যাটাকিং ফুটবলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

আপাতত ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১০১ স্থানে থাকা ভারতীয় দলের হয়ে স্টিমাচের প্রথম পরীক্ষা ৫ জুন থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হতে চলা কিংস কাপে। যেখানে আয়োজক থাইল্যান্ড ছাড়াও অংশগ্রহণ করবে ভিয়েতনাম ও কুরাকাও।