নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: মূর্তি ভঙা নিয়ে প্রতিবাদ উঠেছিল কলকাতায়। তাই মূর্তি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কথা মতই মূর্তি বসালেন তিনি। আর হেয়ার স্কুলে সেই মূর্তি বসাতে গিয়েই মমতার মুখে ফের মুসলিম তোষণের কথা।

সব ধর্মকেই সম্মান করেন তিনি। হিন্দু-মুসলিম উভয়েই জন্যই কাজ করেছেন অনেক। তবে, তাঁর বিরুদ্ধে কেন শুধুই মুসলিম তোষণের অভিযোগ ওঠে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে সিস্টার নিবেদিতার বাড়ি সারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক তৈরির কথাও উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারকেশ্বরের জন্য কাজ করেছেন, মা তারার মন্দিরের জন্যও কাজ করেছেন, পাথরচাপড়ি কিংবা ফুরফুরা শরিফেও কাজ করেছেন তিনি। এসব উল্লেখ করে মমতা বলেন, ”এরপরও শুনতে হবে আমরা হিন্দু নই, আমরা মুসলিম তোষণ করি।”

এর আগেও এভাবে একই ভাষায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বিরোধী শিবির থেকে বারবার মমতার বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ ওঠে। তাই এই প্রসঙ্গে রুষ্টই হন মমতা।

লোকসভা নির্বাচনের ফল সামনে আসার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘‘আমি কিন্তু ইফতারে যাচ্ছি৷ আপনারাও আসবেন৷ আমি তো মুসলমানদের তোষণ করি৷ ১০০ বার যাব৷ যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খাওয়া উচিত৷’’

আর মমতার এই মন্তব্যের জেরে তাঁকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। মুকুল রায়ও এই প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ করেছিলেন মমতাকে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”সবার দ্বারা গেরুয়া ধারণ হয় না, তারাই উপযোগী যারা সম্মান করে।” এদিনও তিনি বারবার বলেন, ‘বাংলা গুজরাত নয়।’ আরও বলেন, গুজরাতের মানুষকে ভালবাসি, দাঙ্গাবাজদের ভালবাসি না।

বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাকে বদনাম করার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ”বাংলার বদনাম করা হচ্ছে প্ল্যান করে। বিদ্যাসাগরে পায়ের তলায় দাঁড়িয়ে বলছি, আমাকে মেরে দিন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। শুধু বাংলাক যদি ভালোবাসেন। তাহলে সবাই জোট বাঁধুন।”

বিদ্যাসাগরের মূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চারটি ব্রোঞ্জের মূর্তি গড়ব আমরা। সেগুলি বানাতেও দিয়েছি। আর একটা কাজী নজরুল ইসলামের মূর্তি গড়ব।’ মূর্তি ভেঙে বর্ণপরিচয় মোছা যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এটা বাংলাকে ভেঙে ফেলার একটা চক্রান্ত। বুবাংলার সংস্কৃতিকে আঘাত করা হচ্ছে এবং বাংলাকে ভোলানোর চক্রান্ত চলছে বলেও মনে করেন তিনি।