ওয়াশিংটন: করোনার থাবায় কম্পিত গোটা বিশ্ব। পৃথিবীর ১৮৯ টি দেশে থাবা বসিয়েছে মারণ এই ভাইরাস। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবুও মারণ এই রোগ থেকে মুক্তির কোনও প্রতিষেধক বেরোয়নি এখনও পর্যন্ত। মারণ এই ভাইরাস থাবা বসিয়েছে মার্কিন মুলুকেও। সেখানেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মারণ এই ভাইরাসটির কবলে পড়েছেন ৯৮ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক। যিনি কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক ছিলেন।

মারণ এই ভাইরাস কাবু করে দিয়েছে ১৯৪৪ এর এই হিরোকে। কে এই হিরো? তার আসল পরিচয় জানতে হলে আমাদের একটু পিছনের দিকে যেতে হবে। ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধ ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যা চলেছিল প্রায় ৬ বছর ধরে(১৯৩৯-১৯৪৫)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ২১ বছর পর সংঘটিত এই যুদ্ধে পৃথিবীর প্রায় সব দেশই ভীষন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আর সেই সময় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল আমেরিকা।

আর এই আমেরিকার নিউ জার্সির বাসিন্দা হ্যারি ফেন ছিলেন সেই ভয়ংকর সময়ের এক তরতাজা যুবক। তিনি তখন আমেরিকার রয়্যাল নেভিতে কর্মরত ছিলেন। একজন নৌসেনা হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি রয়্যাল নেভির মেডিকেল স্কুলে কর্মরত ছিলেন। গোটা বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং পরবর্তী অসহায়তার কালো ছবি নিজে চোখে দেখেছিলেন ৯৮ বছর বয়সী আজকের বৃদ্ধ হ্যারি ফেন। পৃথিবীর কঠিন সময়ে একভাবে কাজ করে যাওয়া এই রিয়েল হিরো সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছেন মারণ করোনভাইরাসে।

গোটা বিশ্ব যখন উদ্বেগে ভুগছে, তখন একটি ভিডিও বার্তায় সবাইকে করোনার বিরুদ্ধে সচেতন এবং সুস্থ থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। এদিন একটি ভিডও বার্তাতে ফেন বলেন, “দীর্ঘদিন আমি দেশের সেবা করেছি। আমার কর্তব্য পালন শেষ। এবার আপনাদের পালা। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশকে বাঁচাতে হবে। এখনই সময় পৃথিবীর জটিল এই অসুখে নিজে এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখা। দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের এটাই এখন সঠিক সময়।”

প্রসঙ্গত, ক্রমেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৪০০’এর উপরে। মৃত্যু মিছিলে চিনের পর ইতালি সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত।