নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের মানুষকে ধৈর্য্য ধরতে বললেন জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। ‘এর ফল সুদূরপ্রসারী, পরবর্তীতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অনেক ইতিবাচক দিক দেখবে সাধারণ মানুষ’, জানালেন শাস্ত্রী।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে অধিনায়ক বিরাট কোহলি এপ্রসঙ্গে না জেনে মন্তব্য থেকে বিরত থাকলেও সিএএ নিয়ে মুখ খুললেন কোহলিদের হেডস্যার। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষদের আমি ধৈর্য্য ধরতে বলছি। কারণ, আমি দেখতে পাচ্ছি সিএএ’র প্রভাব অনেক সুদূরপ্রসারী। এমনকি একাধিক ইতিবাচক দিক বেরিয়ে আসবে এর মাধ্যমে।’ দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে কোহলিদের হেডস্যারের আরও সংযোজন, ‘জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নিজেদের আগে ভারতীয় হিসেবে ভাবতে শিখুন। তাহলেই দেখবেন সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় সরকার ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন দেখার কীভাবে এটি কার্যকর করা হবে।’

দেশের নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে এক্ষেত্রে পরবর্তীতে যদি কিছু বদল আনা প্রয়োজন বলে মনে হয়, সরকার সেক্ষেত্রে বদল আনবে বলেও বিশ্বাস করেন শাস্ত্রী। একইসঙ্গে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তিনি এই মতামত পোষণ করছেন বলেও জানান একাধারে জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও প্রাক্তন ধারাভাষ্যকর।

উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধীতায় সম্প্রতি সোচ্চার হয়েছিল গোটা দেশ। প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বলেছে হিংসার আগুন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদী আন্দোলনের মুখ ছিল অসম। কারণ, একমাত্র রাজ্য হিসেবে সেখানেই কার্যকর করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ। রাজ্যের রাজধানী শহর গুয়াহাটিতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ। যদিও বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গিয়েছিল ম্যাচ। তবে ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই সিএএ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। আপনি কী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সমর্থন করেন?

প্রশ্নের উত্তরে কোহলি জানান, এই বিষয় সম্পর্কে পুরোটা না জেনে কোনও মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তাই সিএএ নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয়। তাই কোহলি এড়িয়ে গেলেও সিএএ নিয়ে রবি শাস্ত্রীর মন্তব্য যে সামান্য হলেও প্রভাব ফেলবে গোটা ঘটনায়, তা বলাই বাহুল্য।