কিংস্টন: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের নবম ওভারে তখন রণমূর্তি ধারণ করেছেন বুম বুম বুমরাহ। ব্যক্তিগত চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছেন ডারেন ব্র্যাভো ও শারমার ব্রুকসকে। কিন্তু হ্যাটট্রিক বলটি গিয়ে রোস্টন চেসের প্যাডে লাগলেও সেভাবে আবেদন করতে দেখা যায়নি বুমরাহকে। অন-ফিল্ড আম্পায়ার পল রেইফেলও সাড়া দেননি সেই আবেদনে। কিন্তু স্লিপে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক কোহলি কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। বোলার নিজে খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ না করলেও কোহলি কিন্তু মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন বুমরাহকে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ এনে দিতে।

রিভিউতে দেখা যায় হ্যাটট্রিকের জন্য প্রয়োজনীয় সবক’টি ক্রাইটেরিয়াই যাচ্ছে বুমরাহর অনুকূলে। ফলস্বরূপ তিনটি লাল আলো জ্বলে উঠতেই লাফিয়ে ওঠেন অধিনায়ক বিরাট। নাটকীয় মোড়কে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিক ঝুলিতে ভরেন ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া পেস বোলিং সেনসেশন জসপ্রীত বুমরাহ। হরভজন সিং, ইরফান পাঠানের পর তৃতীয় ভারতীয় বোলার হিসেবে অনন্য এই কীর্তি গড়লেন আমেদাবাদের পেসার। স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিকের পর বুমরাহ জানালেন, হ্যাটট্রিকের জন্য অধিনায়কের কাছে ঋণী তিনি।

শনিবার ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিক নায়কের একটি ইন্টারভিউ নেন অধিনায়ক কোহলি স্বয়ং। সেখানে হ্যাটট্রিকের অনুভূতি জানতে চেয়ে বুমরাহকে প্রশ্ন করেন অধিনায়ক। উত্তরে বুমরাহ জানান, ‘সত্যি বলতে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম বলটা প্রথমে ব্যাটে লেগে তারপর প্যাডে আঘাত করেছে। তাই আবেদনটাও জোরালো ছিল না। কিন্তু এটা একটা দুর্দান্ত রিভিউ ছিল। তাই আমি হ্যাটট্রিকের জন্য আমার অধিনায়কের কাছে ঋনী।’ বুমরাহ যখন কথাগুলো বলছেন তখন কোহলির হাসিই বুঝিয়ে দিচ্ছিল দলের তরুণ সেনানীর হ্যাটট্রিকের জন্য তিনি কতটা উদগ্রীব ছিলেন।

বুমরাহর হ্যাটট্রিক সহ ৬ উইকেটে দ্বিতীয়দিনের শেষে কোণঠাসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৭ উইকেটে ৮৭। ৩২৯ রানে পিছিয়ে তারা। বুমরার হ্যাটট্রিকের আগে শনিবারের সাবাইনা পার্কে ছিল ‘হনুমা বিহারী শো’। প্রথম দিনের শেষে ৪২ রানে অপরাজিত বিহারী টেল-এন্ডারদের নিয়ে দলের রান চারশোর গন্ডি পার করে দেন। শুধু তাই নয়, দিনভর ক্যারিবিয়ান বোলারদের শাসন করে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক শতরানটিও এদিন পূর্ণ করেন তিনি। অষ্টম উইকেটে তাঁকে নির্ভরতা দেন ইশান্ত শর্মা। টেস্ট কেরিয়ারে এদিন অভিষেক অর্ধশতরান আসে ইশান্তের ব্যাট থেকে।

অষ্টম উইকেটে বিহারী-ইশান্তের জুটিতে ওঠে মূল্যবান ১১২ রান। শেষ অবধি ১১১ রানে হোল্ডারের শিকার হন বিহারী। ৫৭ রান করেন ইশান্ত। খুব বড় অঘটন না ঘটলে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অধিনায়ক কোহলির দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। দ্বিতীয়দিনের শেষে রিপোর্টকার্ড অন্তত তেমনটাই বলছে।