পুণে: হনুমা বিহারীর পরিবর্ত হিসেবে একাদশে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করলেন। ৫৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তাঁর কামব্যাক টেস্ট স্মরণীয় করে রাখলেন উমেশ যাদব। তবে তাঁর এই স্মরণীয় কামব্যাকের কৃতিত্ব যাদব ভাগ করে নিতে চান ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে। উইকেটের পিছনে দস্তানা হাতে নিজের ‘সুপারম্যান’ তকমাটা যিনি পোক্ত করলেন পুণেতে। ফিটনেস লেভেলকে উচ্চতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে যিনি প্রমাণ করলেন পাঁচদিনের ক্রিকেটে উইকেটের পিছনে এখনও ‘অটোমেটিক চয়েস’ তিনিই, তরুণ পন্ত বরং অপেক্ষাতেই থাকুক।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ঋদ্ধিকে দলের পয়লা নম্বর উইকেটরক্ষক বিবেচিত করে তাঁকে ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা’ আখ্যা দিয়েছিলেন অধিনায়ক কোহলি। আর পুণের বাইশ গজে অধিনায়কের সেই আস্থার মর্যাদা যেন ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে ফেরত দিলেন শিলিগুড়ির পাপালি। প্রথম ইনিংসে ডি ব্রুইনকে সাজঘরে ফেরানোর পথে যে ক্যাচটা নিয়েছিলেন সেটা নিঃসন্দেহে হতে পারত প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা পূজারার ক্যাচ। কিন্তু উমেশের ডেলিভারিতে ডি ব্রুইনের ব্যাটের কানায় লাগা বল উড়ন্ত বাজের ক্ষিপ্রতায় তালুবন্দি করেছিলেন সাহা। কুড়িয়েছিলেন প্রশংসা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও উমেশের ডেলিভারিতে ফের ঋদ্ধির হাতে উইকেটের পিছনে ধরা পড়লেন ডি ব্রুইন। এবার ঋদ্ধি যেন ছাপিয়ে গেলেন তাঁর প্রথম ইনিংসের ক্ষিপ্রতাকেও। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানের ব্যাট ছুঁয়ে বল এক্ষেত্রে অবধারিত বাউন্ডারি হওয়ার আগে লেগ-সাইডে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁ-হাতে দুরন্ত দক্ষতায় তালুবন্দি করলেন বছর চৌত্রিশের ঋদ্ধি। যা দেখে সৈয়দ কিরমানির কথা মনে পড়ে গেল সুনীল গাভাস্করের। আর দুই ইনিংসেই তাঁর ডেলিভারিতে ঋদ্ধির এমন অবিশ্বাস্য ক্যাচের পর সতীর্থের কাছে ঋণী যাদব ট্রিট দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করলেন ঋদ্ধিকে।

ভারতীয় পেসারের কথায়, ‘লেগস্ট্যাম্পের বাইরে ওইরকম ডেলিভারির পর সেটা বাউন্ডারি হবে ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি ক্যাচ ধরার ন্যূনতম যদি সুযোগ থাকে তাহলে ও সেটা কাজে লাগাবে।’ শুধু ডি ব্রুইনের ক্যাচই নয়, চতুর্থদিন সকালে অশ্বিনের ডেলিভারিতে ফ্যাফ ডু’প্লেসির জাগলিং ক্যাচেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়ে নেন পাপালি।

ঋদ্ধিকে নিয়ে প্রশংসার পাশে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে ম্যাচ শেষে যাদব বলেন, ‘দেশের জার্সিতে শেষ টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলাম, তাই আত্মবিশ্বাস ছিলোই। আর আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই ভালো পারফর্ম করতে পেরেছি। সন্দেহ থাকলে সম্ভব হতো না।’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।