দেরাদুন: ‘শেষ নিঃশ্বাস অবধি তোমাকে ভালোবাসব৷ তোমার জন্য আমি গর্বিত…’ সোমবার জঙ্গি নিধন অভিযানে বেরিয়েছিলেন মেজর বিভূতি শঙ্কর ধৌন্দিয়াল৷ অপারেশন শেষে খতম হয় পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড জইশ জঙ্গি কামরান৷ তাকে খতম করে ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যুর বদলা নিল সেনা৷ কিন্তু অপারেশনের সাফল্য দেশে যেতে পারেননি মেজর বিভূতি শঙ্কর৷ জঙ্গির গুলিতে শহিদ হন তিনিও৷ এদিন কফিনবন্দি হয়ে তাঁর দেহ ফিরে উত্তরাখণ্ডের বাড়িতে৷

স্বামীর প্রয়াণের খবরে প্রথমে ভেঙে পড়েন স্ত্রী নিকিতা৷ যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়কে উপেক্ষা করে অসীম বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন মেজর বিভূতি শঙ্কর৷ এমন পুরুষের স্ত্রী আর শোকে বিহ্বল হয়ে থাকতে চাননি৷ বরং এখন গর্ববোধ করার সময়৷ তাই চোখের জল মুছে শেষবারের মতো স্বামীকে দেখতে আসেন৷ চোখে মুখে তখন শুধুই গর্ব৷ স্বামীর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে বলে ওঠেন, ‘‘আমার সত্যিই খুব গর্ববোধ হচ্ছে৷ আমরা সবাই তোমাকে ভালোবাসি৷ কিন্তু তোমার ভালোবাসা অনেক আলাদা৷ তুমি তাদের জন্য প্রাণ দিয়েছ যাদের অনেককে তুমি চেনো না৷ কিন্তু তাস্বত্ত্বেও তাদের জন্য নিজের জীবন দিতে এতটুকুও ভাবোনি৷’’

মেজর বিভূতি শঙ্করকে স্বামী হিসাবে পেয়ে তিনি গর্বিত৷ স্বামীর অকাল প্রয়াণ তাঁকেও কষ্ট দিয়েছে৷ আর কখনোও স্বামীর মুখের দিকে চেয়ে নিকিতা বলতেও পারবেন না ‘‘আমি তোমাকে ভালোবাসি৷’’ আর এই ভালোবাসা শেষ নিঃশ্বাস অবধি থাকবে৷ এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্যালুট জানিয়ে মেজর বিভূতি শঙ্কর ধৌন্দিয়ালকে বিদায় জানান নিকিতা৷

এদিন দেরাদুনে শহিদ মেজরের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে৷ আসেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং৷ তাঁর কফিনে মাল্যদান করেন৷ মেজরের অন্তিম যাত্রাতেও প্রচুর মানুষ ভিড় করেন৷ সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে হরিদ্বারে৷ সেখানে হবে শেষকৃত্য৷