নয়াদিল্লি: শুধু হিন্দুরা কেন, মুসলিমদেরও রাম মন্দিরের জন্য খুশি হওয়া উচিৎ মুসলিমদেরও। তাঁর বিশ্বাস মুসলিমদের জন্যও রাম সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে ভারতের ৯৯ শতাংশ মুসলিম আসলে ধর্মান্তরিত।’

অযোধ্যা মামলার রায়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রামদেব বলেন, অযোধ্যার অর্থই ‘অজেয়’ তাই ওই স্থানে রাম মন্দির হবে এটাই স্বাভাবিক।

প্রায় তিন দশক ধরে চলতে থাকা অযোধ্যা মামলার রায়ে বিতর্কিত জমিতেই রাম মন্দির গড়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গড়ে মন্দির করার নির্দেশ দেয় কোর্ট। মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদ গড়ার জন্য রাজ্য সরকারকে জমির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এই রায়ের পরেই শুরু হয়ে যায় রাম মন্দির গড়ার তোড়জোড়।

অযোধ্যার রায় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ দিন রামদেব বলেন, ‘ভারতের তো সর্বত্র ভগবান বিরাজ করে। ক্রিশ্চানদের যেমন পবিত্র ভ্যাটিকানের ক্যাথলিক চার্চ আছে। শিখদের অকাল তখত্‌ আছে। মুসলিমদের মক্কা আছে। তেমনই হিন্দুদের পবিত্রতম মন্দির হিসাবে গড়ে উঠবে অযোধ্যার রামমন্দির।’

ইদানিং রাম কে নিয়ে একটি বিশেষ স্লোগান রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছে। পদ্মশিবিরের বহু নেতাদের মুখে মুখেই ফিরছে এই স্লোগান। অনেকে আবার মনে করেন উগ্র হিন্দুত্ববাদের ক্ষেত্রে রামকে টেনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে গেরুয়াশিবিরের নেতারা। কিন্তু, এই ধরনের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন রামদেব। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রাম কোনও মূর্তি নয়। তিনি দৃঢ়তার প্রতীক। ত্যাগের প্রতীক। তাই রাম সমগ্র ভারতের কাছে এক পুজনীয়।’

রাম মন্দির গড়ার ক্ষেত্রে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান রামদেব। তিনি বলেন, ‘হতে পারে মুসলিমদের ধর্ম আলাদা কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষ তো একই ছিল। সেই জন্যেই ভগবান রাম একজন হিন্দুর কাছে যেমন পুজ্য ঠিক সেই ভাবেই একজন মুসলিমের কাছেও তিনি আদর্শ। দেশের অধিকাংশ মুসলিমই তো ধর্মান্তরিত মুসলিম। তাই দেশের মুসলিম ভাইদের সঙ্গে আমার ৯৯% ডিএনএ মিলে যাবে।’

রাম মন্দির কেমন হবে বলে মনে হয় তাঁর? এই প্রশ্নের উত্তরে রামদেব জানান, ‘দেশের সমস্ত সাংস্কৃতিক,ঐতিহ্য,ইতিহাস ফুটে উঠবে এই মন্দিরের স্থাপত্যে। এই মন্দিরের স্থাপত্য, ভাস্কর্য, পরিকাঠামো হার মানাবে দেশ বিদেশে বহু মন্দির,মসজিদ,গির্জার স্থাপত্যকেও।’

সূত্রের খবর, এই মন্দির গড়তে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এই মন্দির নির্মাণ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে একটি ট্রাস্ট গড়ার নির্দেশ দেয় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। এই ট্রাস্ট প্রসঙ্গে রামদেব বলেন, ‘যদি কোনও কারণে ট্রাস্টের অর্থ শেষ হয়ে যায় তবে আমি কথা দিলাম হাজার হাজার কোটি টাকা যত লাগবে সব দেব। শুধু আমি কেন ভারতের অনেক রামভক্তই অর্থ দেবেন। রাম মন্দির অনন্য ভাবেই তৈরি হবে।’