আহমেদাবাদ: দলিত নেতা ও গুজরাতের বিধায়ক অল্পেশ ঠাকুর গত মাসেই কংগ্রেস ছেড়েছিলেন৷ তারপরেই বিজেপি যোগ দেওয়ার জল্পনা হাওয়ায় ভাসছিল৷ মঙ্গলবার সব জল্পনার অবসান করে অল্পেশ জানিয়ে দিলেন, আপাতত বিজেপি যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনাই নেই তাঁর৷ যদিও একাদিক বিজেপি নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন৷

সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তাঁর মন্তব্য, বিজেপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি আপাতত সেই পথে পা বাড়াচ্ছেন না৷ আগে স্বাধীন ভাবে নিজের এলাকার জন্য কাজ করতে চান তিনি৷

এপ্রিল মাসে অল্পেশ ঠাকুরের সঙ্গেই আরও দুই বিধায়ক ধবলসিন ঠাকুর ও ভারতজী ঠাকুর কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন৷ লোসকভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগেই তাঁরা পদত্যাগ করেন৷ বেশ কয়েক বছর আগে সংরক্ষণ নিয়ে সোচ্চার হয়ে লাইম লাইটে এসেছিলেন অল্পেশ ঠাকুর৷ ২০১৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে৷ গুজরাত নির্বাচনের আগে রাধানপুর থেকে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হন৷

আরও পড়ুন : খালিস্তানপন্থীদের সঙ্গে জোট আইএসআইয়ের, হামলার টার্গেট প্রাক্তন সেনাকর্মীরা

সোমবার বিজেপিতে যেতে পারেন দলত্যাগী কংগ্রেস বিধায়ক অল্পেশ ঠাকুর বলে জল্পনা উঠেছিল৷ সোমবার গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী নীতিন প্যাটেলের সঙ্গে দেখাও করেন তিনি৷ তারপরেই অল্পেশের বিজেপিতে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়ে৷

একসময় বিহার কংগ্রেসের সেক্রেটারি-ইন চার্জ ছিলেন অল্পেশ৷ পরবর্তীকালে ঠাকুর সেনা নামে একটি সংগঠন নিজের হাতে তৈরি করেন৷ তবে লোকসভা ভোটের সময় কংগ্রেস ত্যাগ করেন৷ কারণ হিসাবে জানান, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে৷ দলে তিনি বৈষম্যের শিকার৷

অপরদিকে কংগ্রেসও অল্পেশের কাজকর্মে অখুশি ছিল৷ তাঁর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজেরও অভিযোগ ওঠে৷ কংগ্রেস গুজরাত বিধানসভার সচিবের কাছে অল্পেশের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানায়৷ অল্পেশ দলত্যাগ তো করেন, সঙ্গে কংগ্রেসের যে সব পদে ছিলেন সবকিছু থেকে ইস্তফা দেন৷

আরও পড়ুন : পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড়, রাহুলকে নিয়ে আজ ফের বৈঠকে কংগ্রেস

আসলে লোকসভা ভোটের আগে অল্পেশ ও কংগ্রেসের মধ্যে প্রার্থীপদ বাছাই নিয়ে দুরত্ব তৈরি হয়৷ ঠাকুর সেনার এক কর্মীর কথায়, লোকসভা ভোটে প্রার্থী নির্বাচনের সময় অল্পেশের মতামতকে গুরুত্বই দেয়নি কংগ্রেস৷ তাঁকে বাদ দিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়৷ এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁকে না জানিয়ে নেওয়া হত৷ ক্রমশ দলে গুরুত্বহীন হয়ে পড়া মেনে নিতে পারেননি অল্পেশ৷ তাই দলত্যাগ৷