স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল জগদীশ ধনকড়৷ রাজ্যের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘‘আমি সংবিধান মেনেই চলি। কখনই লক্ষ্মণরেখা পেরোইনি। মুখ্যমন্ত্রী ও আমার মধ্যে যা ঘটেছে, সে নিয়ে কখনই প্রকাশ্যে বলিনি৷ রাজ্যের সঙ্গে কী আলোচনা হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে আনা রাজ্যপালের সমীচিন নয়’’।

বাবুল সুপ্রিয় কাণ্ডের পর আজ ফের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রাখলেন আচার্য জগদীপ ধনখড়। সামনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব। সমাবর্তনে কাদের ডিলিট-ডিএসসি দেওয়া হবে, তা নিয়েই আজ কোর্ট মিটিং ছিল যাদবপুরের। সেই মিটিংয়ে যোগ দিতেই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আচার্য ধনখড়। রাজ্যপালের আগমন উপলক্ষে আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সাদা পোশাকে পুলিস ঘুরতে দেখা যায়।

রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার কটাক্ষ করেছিলেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ তিনি বলেছিলেন, রাজ্যকে ‘ওভারটেক’ করে রাজ্যপাল কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ৫০ বছরে আর কোনও রাজ্যপালকে নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন বলে বলতে শোনেননি৷ এদিন সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নিশানা করে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ইস্যুতে কিছু বলব না। তবে রাজ্যের এক শীর্ষ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন সংবাদমাধ্যমে, তা একজন মন্ত্রী হিসেবে ঠিক করেননি। আগে তথ্য যাচাই করে কথা বলুন। আমি যখন কোনও বিষয়ে মন্তব্য করি, সে বিষয়ে জেনেবুঝেই মুখ খুলি’’। এ প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘অনেকেই যা খুশি মন্তব্য করছেন, তাঁদের হাতজোড় করে বলছি, আগে সবটা জেনে তবেই মন্তব্য করুন’’।

রেড রোডে দুর্গা প্রতিমার কার্নিভাল অনুষ্ঠান নিয়েও খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যপাল। এদিন ফের এ প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘চার ঘণ্টা ধরে আমায় ব্ল্যাক আউট করা হল। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হল। এরকম ঘটনা আর কোথাও ঘটেনি আগে। অনেকে বলেছেন আমি নাকি শুধু প্রচার চাই। যাঁরা একথা বলছেন, তাঁরা নিজেদের দিকে তাকান। আমার প্রচারের দরকার নেই’’। তিনি আরও বলেন, পুজো কার্নিভালে যেমন বাংলার প্রতিভার নিদর্শন তুলে ধরা হয়, তেমনই সেখানে একটা অন্ধকার দিক ছিল। উল্লেখ্য, এ প্রসঙ্গে ক’দিন আগে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন তাঁর শিলিগুড়ি সফর-বিতর্কেও মুখ খুলেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘‘কেউ বলছেন আমি নাকি পর্যটক, আমি পর্যটক নই। আমি আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছি। আমি স্তম্ভিত এ ধরনের মন্তব্য শুনে’’। উল্লেখ্য, ক’দিন আগে শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল। যে বৈঠক ‘বয়কট’ করে তৃণমূল। এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যপালকে নিশানা করতে আসরে নামে শাসক শিবির।