নয়াদিল্লি: নুসরতকে নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন অনেকের মতই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তসলিমা। সমর্থন করেছিলেন নুসরতকে। সিঁদুর পরা নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও অ-মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করেছেন বলে বাহবা দিয়েছিলেন। সেই ট্যুইটের দু’দিন পর ফের সরব বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা। নুসরতের সিঁদুর পরা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করলেন তিনি।

মঙ্গলবার তিনি ট্যুইট করে বলেন, নুসরতের অ-মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করার বিষয়টি তিন সমর্থন করলেও সিঁদুর পরার বিষয়টাকে সমর্থন করেন না তিনি। একইসঙ্গে স্বামীর পদবী ব্যবহার করাতেও সায় নেই তাঁর। একথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

আসলে, তসলিমা বরাবরই ফেমিনিস্ট। তাই বিয়ের চিহ্ন হিসেবে সিঁদুর পরায় তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর যুক্তি, নুসরতের স্বামী তো বিয়ের চিহ্ন হিসেবে সিঁদুর পরছেন না।

এছাড়া নুসরত লোকসভায় সাংসদ হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করার সময় নিজের নাম বলেন, নুসরত জাহান রুহি জৈন। অর্থাৎ, স্বামী নিখিল জৈনের পদবী ব্যবহার করছেন তিনি। এখানেও তসলিমার যুক্তি একই। নিখিল তো পদবী বদল করেননি, তাহলে নুসরতকে কেন করতে হল?

দেওবন্দের ইমামরা নুসরতের সিঁদুর পরা দেখে ক্ষুব্ধ হন। নুসরত কেন অ-মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করলেন এবং কেন হিন্দু স্বামীর পদবী ব্যবহার করলেন লোকসভায় শপথ নেওয়ার সময়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ইমামরা। নুসরতের বিরুদ্ধে ফতোয়াও জারি করা হয়।

এই প্রসঙ্গে তসলিমা আগেই ট্যুইটার হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘নুসরত জাহান মুসলিম আর তিনি অ-মুসলিম নিখিল জৈনকে বিয়ে করেছেন। হিন্দু রীতি মেনে হয়েছে বিয়ে। কেউ ধর্মান্তরিত হননি। কিন্তু দেওবন্দের ইমামরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা চান অ-মুসলিমদের বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত করতে হবে।’ তসলিমা জোর দিয়ে বলেন, ”ভিন্নধর্মের বিয়েতে হ্যাঁ বলুন আর ধর্মান্তরকরণে না।”

কোনও কোনও মুসলিম ধর্মগুরু বলেন, সিঁদুর পরে নুসরত নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। তার জবাবে নুসরত বলেন, ‘আমি এখনও একজন মুসলিম। তবে সব ধর্মকেই সম্মান করি। আর আমি কী পরব, সেটা নিয়ে কারও মন্তব্য করা উচিৎ নয়। বিশ্বাস তো পরিধানের উর্ধ্বে।’