কলকাতা: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত এবার পৌঁছে গেল সংসদে৷ তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যপালের ভূমিকার সমালোচনা করেন৷ তার পরই পাল্টা বিবৃতি দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷

সোমবার শীতকালীন সংসদীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নজিরবিহীন ভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় সরব হন তৃণমূল। তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে রাজ্যপাল বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন৷ রাজ্যপাল রাজ্যে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন৷

তার পরই শিলিগুড়িতে পাল্টা বিবৃতি দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ তিঁনি জানান, “সংবিধান অনুসারে আমি রাজ্যের যে কোনও জায়গায় যেতে পারি। যাবও। এজন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, রাজ্যে তিনি সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছেন না।” পাশাপাশি তিঁনি আরও জানান, রাজ্যপাল হিসাবে কোথাও যাওয়ার আগে সেই জেলার প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে তা জানানো বাধ্যতামূলক। আমি প্রত্যেকবার রাজ্য সরকারকে জানিয়ে গিয়েছি।

যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কেন্দ্রই বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্যপাল নিয়োগ করে থাকে। সে ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা থাকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। গত রবিবার তৃণমূলের সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনে রাজ্যপালকে নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কার্যকলাপে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ধ্বংস হচ্ছে৷ অবিলম্বে নয়াদিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে তাঁর আচরণের কৈফিয়ৎ চাওয়ার বিষয়েও অমিত শাহকে জানানো হয়।

তারপর পরিকল্পনামাফিক সোমবার রাজ্যসভায় এই বিষয়ে সরব হন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি অভিযোগ এনে বলেন, ‘রাজ্যপাল কেন্দ্রের হয়ে কাজ করছেন। রাজ্যপাল হয়ে এসে তিনি রাজনীতি করছেন।’

উল্লেখ্য, কয়েকমাস ধরেই রাজ্যপালের নানা কাজে ক্ষুব্ধ শাসকদল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ‘উদ্ধারের’ পর থেকেই শাসকদলের বিরাগভাজন হতে শুরু করেন রাজ্যপাল। গত অক্টোবরে পাহাড় সফরে গিয়ে কার্শিয়াং-এ প্রশাসনিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল। চলতি মাসে শান্তিনিকেতন থেকে ফেরার পথে সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে যান জগদীপ ধনকড়। আর এই প্রশাসনিক ‘দিকগুলি’ রাজ্যপাল কেন দেখবেন? সে বিষয়ে সরব হয়েছেন শাসক দলের নেতা মন্ত্রীরা। মুর্শিদাবাদে একটি কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের এ হেন কাজে ক্ষোভপ্রকাশ করে রাজ্যপালকে ‘কেন্দ্রের এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।