মুম্বই: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজিরা এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি৷ সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞাকে সেই আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে আসতেই হল৷

মালেগাঁও বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই নেত্রীর বিরুদ্ধে৷ এর আগে দুটি শুনানির সময় তিনি আদালতে হাজিরা দিতে পারেননি৷ তাই শুক্রবারের মধ্যে এনআইএ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ সাধ্বীকে দেন ক্ষুব্ধ স্পেশাল বিচারক ভি এস প্রহ্লাদকর৷ আদালতে হাজিরা দিতে এদিন মুম্বই চলে আসেন সাধ্বী৷ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যান আদালতে৷

শুনানি শুরু হতেই বিচারকের একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে আসে ভোপালের এই সাংসদের দিকে৷ বিচারক জানতে চান, আপনি কি জানেন বা আপনার আইনজীবী কি আপনাকে জানিয়েছেন এখন অবধি মোট কতজন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করিয়েছে? জবাবে সাধ্বী জানান, ‘‘আমি জানি না৷’’ তারপরের প্রশ্ন ছিল, সাক্ষীদের বয়ানের পর স্পষ্ট ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মালেগাঁও বিস্ফোরণে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷ এই নিয়ে আপনার কি বক্তব্য? সাধ্বীর জবাব, ‘‘আমি কিছু জানি না৷’’

উল্লেখ্য, সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর মালেগাঁও বিস্ফোরণের মামলার বিচারপর্বে এই প্রথম আদালতে এলেন সাধ্বী৷ শেষবার তিনি এসেছিলেন গতবছর অক্টোবরে৷ স্পেশাল বিচারক গত মাসে এই বিস্ফোরণে অভিযুক্ত সাতজনকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন৷ সাধ্বী প্রজ্ঞা সহ সাতজনই এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত৷

২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে একটি মসজিদের সামনে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে৷ তাতে ৬ জনের মৃত্যু হয়৷ আহতের সংখ্যা একশো ছাড়িয়ে যায়৷ তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরক মজুত মোটরবাইক মসজিদের সামনে রেখে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ আর ওই মোটরবাইক প্রজ্ঞা ঠাকুরের নামে নথিভুক্ত করা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন৷ এরপরেই মালেগাঁও বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িয়ে যায় সাধ্বীর নাম৷ ওই বছরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়৷ ২০১৭ সালে বোম্বে হাইকোর্ট সাধ্বীকে জামিনে মুক্তি দেয়৷