স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বড় দাদা হিসেবে সবসময় তিনি ভাইয়ের পাশে আছেন৷ সেইকারণে তৃণমূলে সঙ্কটে পড়া মাত্রই ভাই সব্যসাচী দত্তকে পরামর্শ দিতে ছুটে এলেন দাদা বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷

সব্যসাচীকে নিয়ে জল্পনায় তাঁর ভূমিকা সব থেকে বেশি। তিনি বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে লুচি-আলুরদম খেয়ে আসার পর থেকেই সব্যসাচীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দূরত্ব বেড়ে চলেছে। রবিবারই সব্যসাচীর ডানা ছেঁটেছে তৃণমূল৷ বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করার পর পুর ও নগোরন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে আপাতত মেয়রের দায়িত্ব সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন৷ এদিনই রাতে বিধাননগরে আসেন মুকুল রায়৷ সুইমিং পুল অ্যাসোসিয়েশনের ক্লাবে সব্যসাচীর সঙ্গে বৈঠকও করেন৷

সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের পদক্ষেপ নিয়ে মুকুলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, অন্য দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক নয়। কিন্তু সব্যসাচী আমার ভাইয়ের মতো।এ ভাবে কাউকে মেয়র পদ থেকে সরানো যায় না। সব্যসাচীকে সরিয়ে যে ভাবে ডেপুটি মেয়রকে পুরসভা চালাতে বলা হচ্ছে তা আইনসিদ্ধ নয়। মেয়র পদ থেকে কাউকে সরাতে গেলে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হয়। সেই অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি করতে হয়। সেকারণেই দাদা হিসেবে পরামর্শ দিতে এসেছি। বিজেপি নেতা হিসেবে আসিনি।

এখানেই থামেননি মুকুলবাবু। তিনি বলেন, সব্যসাচী তো মমতার দেখানো পথেই রাজনীতি করছিল। লোকসভা ভোটে উনি তো ওনার রাজারহাট বিধানসভায় তৃণমূলকে জিতিয়েছেন। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ওনার পাড়ায় হেরেছেন। তা ছাড়া তৃণমূলের ১২১ জন বিধায়ক যে নিজের নিজের এলাকায় হেরেছেন, তাঁদের অনেকেই লোকসভা ভোটে বিজেপি-কে সাহায্য করেছেন। তা হলে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেন নেওয়া হল?

সব্যসাচীর বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে মুকুল রায় বলেন,”বিজেপিতে আসতে চেয়ে আগে আবেদন করুক! আগ্রহ প্রকাশ করুক। আবেদন এলে তবে এব্যাপারে মন্তব্য করব।”