স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আমিই একমাত্র নেত্রী যে প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে CAA-এর বিরোধিতা করেছি৷ বিক্ষোভরত বাম ছাত্রদের উদ্দেশ্যে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

শনিবার মিলেনিয়াম পার্কে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান থেকে টিএমসিপির ধর্না মঞ্চে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। পড়ুয়াদের তিনটি মিছিল সেই সময়েই ‘আজাদি’-র স্লোগান তুলতে তুলতে এগিয়ে আসে মঞ্চের দিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ। পরপর ভেঙে যেতে থাকে ব্যারিকেড। বাম ছাত্ররা প্রশ্ন করতে থাকেন , কেন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন।সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, ‘কেন আপনি নরেন্দ্র মোদীকে এ রাজ্যে অ্যালাও করলেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চ থেকে ছাত্রদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। পাল্টা স্লোগান তুলতে থাকে ছাত্ররা। তাঁদের বক্তব্য, ‘পুরোটাই সেটিং’।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ করে ডেকে আনেননি। উনি নিজেই এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী কলকাতা সফরে এলে সৌজন্যের খাতিরে মুখ্যমন্ত্রীকে যেতেই হয়। তাঁর কথায় ‘‘আমরা নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আসিনি। ওঁর এসপিজি ওঁকে নিয়ে এসেছেন। আমাদের প্রোটোকল আছে। যখন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি আসেন বা যদি অন্য কোনও দেশের কোনও অতিথি আসেন, তখন আমাদের তরফে মিনিস্টার ইনভাইটি পাঠাতে হয়। মনে রাখবেন আমি যাইনি। পাঠিয়েছিলাম ফিরহাদ হাকিমকে। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরই একজন।’’

কিন্তু ছাত্ররা সেই যুক্তি শুনতে নারাজ। ফলে তাঁরা মমতার কথায় কান না দিয়ে স্লোগান চালিয়ে যান। বারবার বুঝিয়েও ছাত্রদের প্রশমিত করতে ব্যর্থ হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা একটাই আন্দোলন করছি। আপনারা একটা আন্দোলন করছেন। একই ইস্যু। আপনারা সবাই মিলে আন্দোলন করুন। শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করুন।’’এরপরই তিনি বলেন, ‘‘আমিই একমাত্র নেত্রী যে মোদীর মুখোমুখি হয়ে CAA-NRCএর বিরোধিতা করেছি৷’’

প্রথমে বাম ছাত্রদের বোঝোনার চেষ্টা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর বলেন, “আমাদের মঞ্চে যদি হামলা হয়, তা হলে ভুলে যেও না আমাদেরও ছাত্র সংগঠন রয়েছে। ওরা এখানেই রয়েছে।” এই সময়েই বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে পাল্টা স্লোগান ওঠে, “মোদীর এজেন্ট মমতা, জেনে গেছে জনতা।”