অ্যান্টিগা: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন বেশ কিছুদিন যাবৎ। শেষবার টেস্ট শতরান করেছেন দু’বছর আগে।সুতরাং অজিঙ্কা রাহানের সামনে সুযোগ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করে নির্বাচকদের উদ্দেশ্যে জোরালো বার্তা দেওয়ার। তবে দীর্ঘতম ফর্ম্যাটে টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ক নিজের কথা নয়, ব্যাট করতে নেমে শুধুই দলের কথা ভাবেন। তাই স্বার্থপরের মত ব্যক্তিগত সেঞ্চুরিতে চোখ রাখেন না কখনোই। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম দিনের শেষে ৮১ রানে আউট হওয়া রাহানে স্পষ্ট জানান যে, তিনি স্বার্থপর নন। তাই ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের থেকেও দলের স্বার্থই তাঁর কাছে বড়। যদিও নর্থ সাউন্ডে রাহানে তিন অঙ্কে পৌঁছলে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতো তার দল।

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষবার টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন রাহানে। স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে তিনি যখন ব্যাট করতে নামেন, দল ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। এই অবস্থায় লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় ইনিংসকে নির্ভরতা দেন রাহানে। পরিস্থিতির বিচারে তার ৮১ রানের ইনিংসটির মূল্য কোনও অংশেই শতরানের থেকে কম নয়।

দিনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কোহলির ডেপুটিকে ব্যক্তিগত শতরান হাতছাড়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘জানতাম এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে আমাকে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। যতক্ষণ সময় আমি ক্রিজে ছিলাম, ততক্ষণ শুধু দলের কথাই ভেবেছি। আমি স্বার্থপর নই। তাই শতরান হাতছাড়া হওয়া নিয়ে এতটুকু চিন্তিত নই। আমি মনে করি এই পিচে ৮১ রানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার ফলে আমরা এখন তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছি।’

পরক্ষণে রাহানে বলেন, ‘যত বেশিক্ষণ সময় আমি ক্রিজে কাটাতে পারি, দলের পক্ষে ততই ভালো। সেঞ্চুরি করতে সবারই ভালো লাগে। তবে ২৫ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতিটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেঞ্চুরি নিয়ে মাথা ব্যথা ছিল না এ-কারণেই যে, ক্রিজে টিকে থাকলে সেটা এমনিতেই আসতো।’

নিজের ব্যাটিংয়ের প্রসঙ্গ ছাড়াও রাহানে দলের হয়ে সাফাই দেন রোহিত শর্মা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের প্রথম একাদশে সুযোগ না-পাওয়া নিয়ে। তিনি বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্টের মনে হয়েছে এই পিচে জাদেজা কার্যকরী হতে পারে এবং দলের একজন বাড়তি ব্যাটসম্যানও প্রয়োজন। ৬ নম্বরে এমন একজন ব্যাটসম্যানকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যে বলটাও করতে পারবে। হনুমা বিহারী এই পিচে বল হাতেও কার্যকরী হতে পারে ভেবে তাকে দলে নেওয়া হয়েছে কম্বিনেশনের স্বার্থে। অশ্বিন, রোহিতের মত ক্রিকেটারদের প্রথম একাদশের বাইরে রাখা সত্যিই কঠিন বিষয়। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের দলের স্বার্থে এটাই ভালো মনে হয়েছে।’