চন্ডীগড়: ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে নিজেকে শারীরিক মিলনে অক্ষম বলে জানাতেও কসুর করেনি গুরমিত রাম রহিম সিং৷ যদিও সে যুক্তি ধোপে টেকেনি বিচারকদের৷ ২০০২ সালে দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের অভিযোগে শেষমেশ জেল যাত্রাই হল তার৷

২০০২ সালে ডেরায় দুই মহিলা সাধ্বীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে সম্প্রতি ২০ বছরের জেল হয় বাবাজীর৷ তবে ধর্ষণ মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টার কোন কসুর করেননি তিনি৷আদালতে মামলা চলাকালীন গুরমিত জানিয়েছিলেন ১৯৯০ সালের পর থেকে তিনি শারীরিক মিলনে অক্ষম হয়ে পড়েন৷ কাজেই ২০০২ সালে সাধ্বীদের ধর্ষণ করার প্রশ্নই আসে না৷ সিবিআই আদালতের বিচারক জগদীপ কুমারের এজলাসে নিজের বয়ান রের্কড করান৷ প্রসঙ্গত ১৯৯০ সালেই তিনি ডেরা প্রধান নিযুক্ত হন৷

তবে গডম্যানের এই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেয় ডেরার এক সাক্ষীর বয়ান৷ ওই সাক্ষীর বয়ান অনুযায়ী ১৯৯৯ সাল থেকে ডেরার হষ্টেলে তার মেয়েরা থাকতে শুরু করে৷ এরপরই বিচারক তার শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ বিচারক জানান, এই কথা জানার পর গুরমিতের পুরুষত্ব নিয়ে সংশয় থাকার কথা নয়৷এরপরই বিচারক গুরমিতের দাবি খারিজ করে দেন৷ সেই সঙ্গে গুরমিতকে হিংস্র পশুর সঙ্গে তুলনা করে বিচারক জানান, অভিযুক্ত কোন সহানুভুতি পাওয়ার যোগ্য নয়৷ ধর্মের নামে ভণ্ডামি করেছেন তিনি৷ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তার প্রাপ্য৷

এদিকে আদালতে ভন্ড বাবাজী শারিরীক মিলনে অক্ষম বলে দাবি করলেও তার ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে কন্ডোম, গর্ভনিরোধক বড়ি, অশ্লীল সিডি মিলেছে৷ নিউজ ১৮কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এই মামলার প্রধান তদন্তকারী অফিসার এম নারায়ণ৷ ডেরা প্রধান থাকাকালীন রঙিন জীবন যাপন করতেন গুরমিত৷ মহিলাদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন তিনি৷ নিজের ব্যক্তিগত ঘরে(গুহায়) সুন্দরী সাধ্বীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকতেন গুরমিত৷ নিত্য নতুন সাধ্বীদের ছোঁয়া চাইতেন তিনি৷ ডেরায় সকলেই জানত এ বিষয়ে৷ কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতেন না কেউ৷ সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে অনেক নির্যাতিতা মহিলা সাধ্বী ডেরা ছেড়ে চুপচাপ চলে গেছেন৷ তাদের মধ্যে থেকে মাত্র ১০ জনকে খুজে পেয়েছে সিবিআই৷এই ১০ জনের মধ্যে ২ জন আদালতে অভিযোগ দায়ের করে৷