নয়াদিল্লি: প্রত্যেক দিনের মতই খাবার ডেলিভারি করতে যাচ্ছিলেন তিনি। লোকেশন দেখে বাইক নিয়ে ছুট। শেষে শুধু রেটিংটা দিতে বলবেন, এর থেকে বেশি প্রত্যাশা তেমন কিছুই নেই। কিন্তু তিনি ভাবেননি যে দেশ জুড়ে তর্ক-বিতর্কের নায়ক হয়ে উঠবেন তিনি। তাই ঘটনার পর কি করবেন বুঝে উঠতে পারেন না সেই ডেলিভারি বয় ফইয়াজ।

অমিত শুক্লা নামের এক ব্যক্তি খাবারের অর্ডারটি ক্যানসেল করে দেন। কারণ, শ্রাবণ মাসে একজন মুসলিমের হাতে করে আনা খাবার তিনি খাবেন না। যিনি নাকি অনলাইনে খাবার অর্ডার আধুনিকতাটুকুতে অভ্যস্ত, তাঁর এমন মধ্যযুগীয় ভাবনা-চিন্তায় শিউরে ওঠেন অনেকে।

সংবাদসংস্থাকে ফইয়াজ বলেছেন, ‘কষ্ট পেয়েঈ, কিন্তু কি আর করার আছে। আমরা গরিব মানুষ।’

অমিত শুক্লা নামের ওই ব্যক্তি ট্যুইট করেন, যেখানে লেখা, “Just cancelled an order on ZomatoIN they allocated a non hindu rider for my food they said they can’t change rider and can’t refund on cancellation I said you can’t force me to take a delivery I don’t want don’t refund just cancel.” (যে খাবার অর্ডার দিয়েছিলাম, তার ডেলিভারি বয় হিন্দু নয়৷ তারা রাইডার চেঞ্জ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে, টাকাও ফেরৎ দেবে না বলেছে তারা৷ আমি বলেছি, তারা আমাকে জোর করতে পারে না হিন্দু নয়, এমন ব্যক্তির থেকে খাবার নিতে৷ আমি এও বলে দিয়েছি টাকা ফেরত দিতে হবে না, তারা যেন অর্ডারটা ক্যানসেল করে দেয়৷)’

অমিত শুক্লা নামের এই গ্রাহক এই ট্যুইট করার পরেই জোম্যাটো থেকে প্রত্যুত্তর আসে, খাবারের কোনও একটা ধর্ম হয় না৷ এটাই একটা ধর্ম৷ জোম্যাটোর এই প্রত্যুত্তরে মুগ্ধ ট্যুইপলরা একের পর এক রিট্যুইট করছেন৷ এক ট্যুইটার ইউজার লেখেন, ‘এই ধরণের গ্রাহকদের ব্লক করে দেওয়া উচিত, যাতে তারা শিক্ষা পায়৷’

তবে এতসবের পরও ওই ব্যক্তির কোনও আক্ষেপ নেই। তিনি জানান, শ্রাবন মাসে মুসলিমের হাতের খাবার খাননি। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলেই এমন কথা বলেছেন তিনি।