স্টাফ রিপোর্টার, শ্রীরামপুর:  জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশের লোক দিদিকে ইলেকট্রিক স্কুটি চালাতে দেখেছে৷ কিন্তু দিদি যে রিক্শা চালাতে ভালবাসে একথা কে জানতো! বৃহস্পতিবার দিদি নিজেই সেকথা জানালেন৷ এদিন বলাগড়ে বললেন, “আমি মনোরঞ্জনের মতো রিক্সা চালাতে ভালোবাসি৷”

হুগলির বলাগড় কেন্দ্রে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী দলিত সাহিত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মানুষ মনোরঞ্জন ব্যাপারী। জাতীয় ও আন্তজর্তাজিক স্তরে সাহিত্য ক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিতি অনেকদিন ধরেই উল্লেখ্য। একসময় পেটের দায়ে রিকশা চালাতেন মনোরঞ্জন৷ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন তিনি এসেছিলেন রিক্সায় বই বেঁধে নিয়ে।

আরও পড়ুন: বাবুল-রুদ্রনীলদের গানের প্রতিবাদে কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল

এ দিন বলাগড়ে একটি সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই মনোরঞ্জনের প্রশংসা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, আমি জেনেছি রান্না করতে করতেই বই লিখেছেন উনি। উনি আমাকে একটা দরখাস্ত লিখেছিলেন। রান্নার বদলে অন্য কোনও কাজ চাইছিলেন তিনি। এই চিঠি পেয়ে ওঁকে লাইব্রেরিতে সরিয়ে এনেছিলাম। তারপর দলিত সাহিত্য অ্য‌াকাডেমি করেছি ওঁকে মাথায় রেখে। আপনাদের নিয়ে অনেকগুলি কাজ করবেন উনি। ভবিষ্যতে এই বলাগড়েই দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমির একটি দফতর হবে। মমতা আরও বললেন, “আমি শুনেছি উনি রিক্সা চালিয়ে নমিনেশন দিতে গিয়েছেন। আমি মুগ্ধ হয়েছি।” এরপরই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে দিদি বলেন, আমি মনোরঞ্জনের মতো রিক্সা চালাতে ভালোবাসি৷ আমি স্কুটি চালাতে ভালোবাসি৷ মমতার রিক্শা চালানোর প্রতি ভালোবাসার কথা শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্য বিজেপি৷ দলের মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “এসব বলে উনি(মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রিক্শাওয়ালাদের অসম্মান করছেন৷ ২তারিখ উনি সব জবাব পাবেন৷”

বলাগড় কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ব্যক্তিগত জীবন ঘাত-প্রতিঘাতে ভরা। প্রচন্ড অভাবের মধ্য দিয়ে বড় হন তিনি। একসময়য় চুরির দায়ে জেলে যেতে হয়েছিল। রিকশা চালিয়েছেন৷ তবে, প্রয়াত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর সংস্পর্শে এসে তাঁর জীবন বদলে যায়। পড়াশোনায় ডুবে যান তিনি। তাঁর কলম থেকে বেড়িয়ে আসে বহু সাহিত্যকর্ম। আর সেই প্রখ্যাত সাহিত্যিকই এবার বলাগড়ে তৃণমূলের বাজি৷ মনোনয়নের দিন মনোরঞ্জন জানিয়েছিলেন, রিকশা চালিয়ে, তিনি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তিনি সমাজের খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর দাবি লোকসভা ভোটে পিছিয়ে থাকাটা কোনও বিষয়ই নয়, বলাগড় বিধানসভা থেকে তিনি এবার ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতবেন।

প্রসঙ্গত, বলাগড়ের মাটিতে বিজেপি বিগত লোকসভা নির্বাচনে ৩৪ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। মমতা এদিন সেই কথাও স্মরণ করে ভোট চাইলেন দলিত-অদলিত সমর্থকদের থেকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।