হায়দরাবাদ : ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।’ বাংলার এই প্রবাদ বাক্যটিই যেন সত্যি হয়ে উঠেছে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীর জীবনে। ৪,০৪২ টি চালের উপর ভগবত গীতা রচনা করে নিজেকে দেশের মধ্যে প্রথম মাইক্রো আর্টিস্ট হিসেবে দাবি করেছেন হায়দরাবাদের আইনের পড়ুয়া রামগিরি স্বরিকা। আর তাঁর এই অসামান্য সাফল্যে উচ্ছ্বসিত চারমিনারের রাজ্য। গর্বিত গোটা দেশ।

শ্রম সাপেক্ষ এই প্রকল্পটি নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করতে স্বরিকার প্রায় ১৫০ ঘন্টা সময় লেগেছে। এছাড়াও এটি তাঁর ২,০০০ শিল্পকর্মের সংগ্রহের মধ্যে অন্যতম একটি নয়া সংযোজন।

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে স্বরিকা বলেন, “আমি ৪,০৪২ টি ধানের শীষের উপর ভগবত গীতা লিখেছি, যা শেষ হতে দেড়শ ঘন্টা সময় লেগেছে। আমি মাইক্রো আর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করি।” তিনি নিজের মাইক্রো আর্ট ওয়ার্কের জন্য ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করেন না বলেই জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন যে, মিল্ক আর্ট, কাগজ খোদাইও করেন এবং অন্যান্য অনেক পণ্যের মতো তিলের বীজেও ছবি আঁকেন তিনি । অতীতে স্বরিকা চুলের স্ট্র্যান্ড নিয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা লিখেছিলেন। যার জন্য তাঁকে তেলঙ্গানার রাজ্যপাল তামিলিসাই সৌন্দরারাজন সম্মানিত করেছিলেন।

স্বরিকা বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে আমার কাজের জন্য স্বীকৃতি পাওয়ার পরে, আমি আমার শিল্পকর্ম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলিতে নিতে ইচ্ছুক।”

এদিন ‘এএনআই-কে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরিকা জানান, “আমার সবসময় বিভিন্ন শিল্পকলা ও সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল এবং ছোটোবেলা থেকেই আমি গান বাজনায় অনেক পুরষ্কার পেয়েছি। আমি গত চার বছর ধরে একটি ধানের শীষে গনেশের ছবি দিয়ে মাইক্রো আর্ট করা শুরু করি, তারপরে ইংলিশ বর্ণমালা একক ধানের দানাতে এই ছবি আঁকার কাজ শুরু করি।”

শুধু তাই নয়, তাঁর এই অসামান্য প্রতিভার পুরষ্কার হিসেবে ২০১৯ সালে তিনি দিল্লি সাংস্কৃতিক একাডেমী থেকে একটি জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন এবং ভারতের প্রথম মাইক্রো-আর্টিস্ট হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।

তিনি জানান “আমাকে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অর্ডার বুক অফ রেকর্ডে ভূষিত করা হয়েছিল, এবং ২০১৯ সালে, আমি উত্তর দিল্লি সাংস্কৃতিক একাডেমী থেকে একটি জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছি। এখনও অবধি আমি ২০০০ এরও বেশি মাইক্রো আর্ট নিয়ে কাজ করেছি।”

আইনের শিক্ষার্থী হয়ে স্বরিকা বলেন, তিনি একজন আদর্শবান বিচারক হয়ে উঠতে এবং অনেক মহিলার কাছে অনুপ্রেরণা হতে চান। স্বরিকার মা শ্রী লতা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে শৈশব থেকেই শিল্প ও সংগীতের প্রতি অনুরাগী ছিলো। মেয়ের এই স্বীকৃতি এবং সাফল্যে তিনি খুব খুশি। “

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।