হায়দরাবাদ- হায়দরাবাদে পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের পর মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত আসমুদ্রহিমাচল। আর এই শোকের আবহেই বাড়ছে ক্ষোভের আগুন। দিল্লি থেকে কলকাতা এই ঘটনায় নিন্দায় সরব গোটা দেশ।

শনিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিল হয় হায়দরাবাদের শাদনগরে। এই মিছিলে দেখা যায় মৃত তরুণীর পরিবার এবং প্রতিবেশীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে হায়দরাবাদের নানা প্রান্তে মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে হয়দরাবাদের অনতিদূরে শাদনগরে তরুণী চিকিৎসকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। এরপর থেকেই এই ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে হায়দরাবাদ। একের পর এক মিছিলে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি করা হয়। মিছিল থেকে বিক্ষোভকারীরা নির্যাতিতার আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি তোলেন।

বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের অনতিদূরে শাদনগরে তরুণী চিকিৎসকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণ করে ওই তরুণীকে খুন করা হয় প্রথমে। তার পর তাঁর দেহ পোড়ানো হয়। শনিবার এই ধর্ষণকাণ্ডে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে হায়দরাবাদ পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান পরিকল্পনা মাফিক ওই তরুণীকে শিকার বানানোর ছক কষা হয়। এই ছক কষা হয়েছিল ঘণ্টা তিনেক আগে। সেই মতো পশু-চিকিৎসক তরুণীর স্কুটারের চাকা ফুটো করে দেওয়া হয়েছিল, সারিয়ে দেওয়ার নাম করে সেই স্কুটার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে পর পর চার জন মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে খুন করে পেট্রল-ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেহ।

তেলেঙ্গানায় গত বুধবারের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। শনিবার ২৬ বছরের ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে এই চার জনই ট্রাকের কর্মী।

এই প্রতিবাদের আঁচ আছড়ে পড়ে রাজধানী দিল্লিতেও। বছর কুড়ির এক তরুণী অনু দুবেকে দেখা যায় শনিবার সংসদ চত্বরে ‘হোয়াই আই কান্ট ফিল সেফ ইন মাই অউন ভারত’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ফুটপাথে বসে থাকতে। তাঁকে এই অভিনব প্রতিবাদ করতে দেখা যায় সংসদের ২ নম্বর এবং ৩ নম্বর গেটে ।

পুলিশ জানিয়েছে, বছর কুড়ির তরুণীকে যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে বলা হলে সে যেতে অস্বীকার করে। এই ঘটনার পরেই পুলিশের গাড়িতে করে তাঁকে পার্লামেন্ট স্ট্রীট পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ শুনে তরুণীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। অভিযোগ বিক্ষোভরত ওই মহিলাকে নিগ্রহ করে দিল্লি পুলিশের তিন মহিলা কনস্টেবল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে দিল্লি মহিলা কমিশন।

অন্য দিকে, হায়দরাবাদের এই ঘটনার প্রতিবাদের আঁচ এসে পৌঁছোয় কলকাতার বুকেও। তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে হত্যা এই নির্মম ঘটনায় পথে নামে নাগরিক সমাজ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল হয়। দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলে সামিল হন বহু মানুষ। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারী এক তরুণী জানান, ‘পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। উন্নত শহরেও মহিলারা সুরক্ষিত নয় এটা সবথেকে বড় লজ্জার।’

নির্ভয়াকাণ্ডের পর ধর্ষণ রোধে কড়া আইন এনেছিলে তৎকালীন মনমোহন সিং-এর সরকার। কিন্তু দেশে ধর্ষণ কমেনি। উল্টে একের পর এক বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশবাসী। এই অন্ধকারের শেষ কোথায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। মোমবাতি মিছিল-বিক্ষোভ-প্রতিবাদে এখন উঠে আসছে একটাই শব্দ ‘হ্যাং দ্য রেপিস্ট’। অর্থাৎ ধর্ষকদের ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।