হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদ গণধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত চার অভিযুক্তের দেহ সোমবার পর্যন্ত সৎকার না করার নির্দেশ দিয়েছে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট।সোমবার আদালতে এই এনকাউন্টারের ‘বৈধতা’ নিয়ে একটি জনস্বার্থে মামলাটির শুনানি হবে। সেই মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দেহ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় কোর্ট।

দেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় শনিবার মৃতদের ময়নাতদন্তের ভিডিও আদালতে জমা করতে হবে।
শুক্রবার রাত দশ’টার সময়েই অভিযুক্তদের দেহ সৎকার করার কথা ছিল। পরিকল্পনা মাফিক এ দিন রাত সাড়ে আট’টার মধ্যে অটোপসিও সম্পন্ন হয়। কিন্তু এর মধ্যেই ১৫ জন মহিলা-সহ মানবাধিকার কর্মীদের একটি দল এই এনকাউন্টারের ‘বৈধতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। এই আবেদনে সাড়া দিয়েই মৃতদের সৎকারের উপর স্থগিতাদেশ জানায় আদালত।

গত ২৭ নভেম্বর তেলঙ্গানার তরুণী পশু-চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। তার পর একটি কালভার্টের নীচে নিয়ে গিয়ে মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের দিন উদ্ধার হয় ওই তরুণীর ঝলসানো মৃতদেহ। তদন্তে নেমে চার অভিযুক্ত চিন্নাকুন্ত চেন্নাকেশভুলু, মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা এবং জল্লু নবীনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে পুলিশ জানায়, এনকাউন্টারে চার জনেরই মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ঘটনার বিবরণ দেন সজ্জানর।

সাইবরাবাদের পুলিশ কমিশনারের বয়ান অনুযায়ী, ‘২ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে পায় পুলিশ। তার পর ৩ এবং ৪ ডিসেম্বর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রচুর তথ্য উঠে আসে। শুক্রবার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থলে। সেখানে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে পাথর ও লাঠি দিয়ে আক্রমণ করে। তাতে দুই পুলিশকর্মী জখম হন। একই সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে দুই অভিযুক্ত। পুলিশ প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে বলে। কিন্তু তারা না করায় পুলিশ বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।’

কমিশনার জানিয়েছেন, পুলিশের চালানো গুলিতে মৃত্যু হয় চার অভিযুক্তের। প্রমাণ হিসেবে বলেছেন, ‘দুই নিহতের হাতের কাছেই মিলেছে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র। আহত দুই কনস্টেবলের মাথায় চোট লেগেছে। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি।’ এর পরেই কমিশনার বলেন, আমি শুধু এটাই বলতে পারি, ‘আইন তার কর্তব্য পালন করেছে।’
এই ঘটনার পরেই অনেকে তা সমর্থন করলেও প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মীরা।
শনিবার সকালেই কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল হায়দরাবাদ এসে পৌঁছবে। ইতিমধ্যেই একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কমিশন। এনকাউন্টারের প্রতিটি বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা উচিত বলে জানিয়েছে কমিশন।