থিম্পু: বিয়ে করলে মেয়েরা সাধারণতঃ সংসার সাজায় স্বামীর বাড়িতে গিয়ে। আমরা এখনো এটাই জানি ও মানি। কিন্তু এই সমাজ ব্যবস্থার বাইরে ঠিক তার উল্টো রীতি প্রচলিত এক জায়গায়। সেই দেশটি আমাদের ভারতের প্রতিবেশী দেশ। তার নাম ভুটান। এখানে ছেলে-মেয়ে কাউকেই বৈষম্যতায় ভুগতে হয় না। বরং পুরুষদের চেয়েও অনেকাংশে এগিয়ে এখানকার নারীরা এমনটাই সেখানকার শিক্ষায় ও কর্মে প্রতিফলিত। সেখানে ঘুরতে গিয়ে কোনো কারণে যদি আপনাকে হাসপাতালে যেতে হয়, তাহলে সেখানে নারী-পুরুষ সব রকমের রোগী দেখতে পাবেন আপনি। কিন্তু ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে কোনো পুরুষ কর্মচারী খুঁজে পাবেন না। কর্মরত সকলেই সেখানে মেয়ে। আবার এখানে দোকানপাটও চালান নারীরা।

এবার কোনো হোটেলে ঢুকলে দেখবেন মালিক, যানবাহনের ড্রাইভার, রান্নার কুকসহ যাবতীয় কাজে নারীরাই নিযুক্ত রয়েছে সেখানে। আবার পরিবারেও যে নারীদের সম্মান সবথেকে বেশি তার প্রমাণ দেয় যে এখানে বাড়ির গবাদি পশু, জমি ও সম্পত্তির সবক্ষেত্রে অধিকার পায় বাড়ির বড় মেয়ে। মনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে তাহলে কি এখানে পুরুষের সংখ্যা কম? না, ৫৩% এখানে পুরুষ বসবাস করেন। আসলে এখানে কাজের নিরিখে কোনো লিঙ্গগত ভেদাভেদ নেই।

এখানে বিয়ের প্রথায় বিদেশিদের নিয়ে বিয়ের কোনো নির্দিষ্ট বিধানের অস্তিত্ব নেই। ভিক্ষুকরা বিয়ের সময় পড়েন মন্ত্র। এই প্রক্রিয়া নাকি নব বিবাহিত স্ত্রীদের মানসিক সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় বলে লোকমুখে প্রচলিত। আবার বিয়ের সময় বা তারপর পুরুষরা আসে তাদের শ্বশুরবাড়ি। অর্থাৎ আমাদের তথাকথিত সমাজের ধারার নিয়মের একেবারে উল্টোদিকে বইছে এই সমাজের গতি। মেয়েদের আসতে হয় না শ্বশুরবাড়ি। তবে ছেলেটি ;পরবর্তীকালে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করতে পারলে মেয়েটিকে নিয়ে সে যেতে পারে নিজের বাড়ি বা অন্য কোথাও। যেখানে আজ আমাদের দেশে মেয়েদেরকেই বারবার শিকার হতে হয় অত্যাচার বা দুর্নীতির, সেখানে এমন নিয়ম সত্যিই মাথা উঁচু করে পুরুষতান্ত্রিক লোকাচারের বা অনিয়মের মুখে ঝামা ঘষে দিতে পারে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.