স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দু’টো পৃথক রাজনৈতিক দলের হয়ে ভোটে নেমেছেন স্বামী-স্ত্রী৷ তবে, একে-অন্যের প্রতিপক্ষ কেউ না। দুটো পৃথক আসনে লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন তাঁরা।

ভোটের ময়দানে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এই দম্পতিকে ঘিরে জল্পনাও তুঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি ২ ব্লকে। এলাকার ৫১ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ডাঃ পার্থপ্রতিম দাস। আর পাশের ৫২ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে বিজেপি-র প্রার্থী হয়েছেন তাঁর স্ত্রী লিপিকা দাস।

ব্যতিক্রমী এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য অবশ্য দাম্পত্য কলহের কথা মানতে নারাজ পার্থ এবং লিপিকা। পার্থবাবু বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কথা বলছেন। আর লিপিকা শোনাচ্ছেন তার উল্টোটা। স্বামী এলাকায় উন্নয়নের কথা তুলে ধরলেও স্ত্রী কিন্তু বলছে সার্বিক উন্নয়ন হয়নি এলাকায়।

পার্থ গত পঞ্চায়েতে খেজুরি ১ ব্লক এলাকা থেকে ভোটে জিতে জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। এবার দল তাঁকে টিকিট দিয়েছে খেজুরি ২ ব্লকে। আর সেই ব্লকে ঠিক পাশের আসনেই লিপিকার বিজেপি-র প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছেন বিদায়ী স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল করছি। কিন্তু আমার স্ত্রী-র বাপের বাড়ি লোকেরা বরাবরের জন্য বামপন্থী। তাই বামপন্থী আদর্শে বড় হয়েছেন উনি। আমার ব্যর্থতা আমি ওঁনাকে তৃণমূলে আনতে পারিনি। খেজুরিতে বামেরা এখন সব বিজেপি-তে নাম লিখিয়েছেন। আমার স্ত্রী-ও সেই পথ অনুসরণ করেছেন। তবে আমি আমার পথেই অবিচল।’’

বিজেপি-তে আপাতত নবাগত লিপিকাকে প্রশ্ন করা হলে নীতির প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। পাল্টা তাঁর স্পষ্ট জবাব একটাই, ‘‘এলাকায় রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতেই বিজেপি-র হাত ধরেছি আমি। এলাকায় উন্নয়ন করার লক্ষ্যেই আমি বিজেপিতে প্রার্থী হয়েছি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে আমাদের জয় হবেই। মানুষ আমাদের দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করছেন।’’

খেজুরি ২ ব্লকের রামচকে বাড়ি পার্থ প্রতীমের। একই গ্রামেই শ্বশুরবাড়ি তাঁর। পারিবারিক কারণেই গত ৪ বছর হল একে-অন্যের মুখ দেখেন না পার্থ আর লিপিকা। দু’জনের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পার্থবাবু। এই কারণেই শ্বশুরবাড়িতে লিপিকা থাকলেও পার্থবাবু থাকতেন চণ্ডিপুরে।