রাঁচি: যদি ইচ্ছে থাকে তবে কোনও চ্যালেঞ্জই আসলে আমাদের আটকাতে পারে না। ঝাড়খণ্ড থেকে একথাই ফের প্রমাণ করলেন এক যুবক। ধনঞ্জয় নামে ওই যুবক নিজের গর্ভবতী স্ত্রীকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১১৭৬ কিমি রাস্তা পার করলেন স্কুটারেই। তাঁর স্ত্রী সনি হেমব্রাম এবছর ডি.ই.এল.এড দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ধনঞ্জয় তাঁর ৭ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে পরীক্ষা দেওয়াতে স্কুটির পিছনে চাপিয়ে গড্ডা থেকে গোয়ালিয়র এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন ট্রেন চলছে না বা তাঁদের আর কোনও উপায়ও ছিল না। আর্থিক অবস্থার কারণে তাঁরা গাড়ির ব্যবস্থাও করতে পারেনি।

তাই ভরসা স্কুটার। আর তাতে করেই স্ত্রীকে নিয়ে সুদীর্ঘ ১১৭৬ কিমি রাস্তা পার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ধনঞ্জয় জানিয়েছে, তিনি গুজরাতের একটি সংস্থায় রান্নার কাজ করেন। লকডাউনের কারণে তার চাকরি চলে গিয়েছে। ৩ মাস ধরে বাড়িতেই আছে সে। তাঁর স্ত্রীর ইচ্ছে শিক্ষকতা করার, তিনি কোনোভাবেই চাননি এই পরীক্ষাটা মিস হোক। তাই স্কুটারেই স্ত্রীকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ধনঞ্জয়।

তবে এখানেই শেষ নয়। ধনঞ্জয় জানিয়েছে, লকডাউনে চাকরি চলে যাওয়ার পরে তাঁর কাছে স্কুটিতে পেট্রল ভরারও টাকা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে সে ১০ হাজার টাকা পায়। গোয়ালিয়রে পৌঁছতে তাঁর ইতিমধ্যেই ৩৫০০ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। ওখানে পৌঁছে তাঁরা থাকছেন ১৫০০ টাকা ঘর ভাড়ায়।

এই রাস্তায় আসতে ধনঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু তবু হাল ছাড়েননি তাঁরা। ধনঞ্জয় নিজে ক্লাস টেন পাশ না হলেও শিক্ষার গুরুত্ব না বুঝে স্ত্রীর স্বপ্নকে সত্যি করতে অসাধ্য সাধন করে তাঁকে নিয়ে পৌঁছায় পরীক্ষা দিতে। প্রায় ২ দিন গাড়ি চালানোর পরে গোয়ালিয়রে পৌঁছেছিল তাঁরা।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I