শ্রীনগর : ফের সংবাদ শিরোনামে বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলো। অল পার্টিস হুরিয়ত কনফারেন্সের ডাকে জম্মু কাশ্মীর জুড়ে সম্পূর্ণ বনধ ডাকা হয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলির দাবি অনৈতিক ভাবে পাশ করা হয়েছে নতুন জমি আইন। ৩১শে অক্টোবর বনধের ডাক দিয়েছে হুরিয়ত কনফারেন্স।

অল পার্টি হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতৃত্বে রয়েছেন গৃহবন্দী মিরওয়াইজ উমর ফারুক। শীর্ষ নেতারা হলেন আবদুল ঘানি ভাট, বিলাল ঘানি লোন ও মসরুর আব্বাস আনসারি। নতুন জমি আইনের কড়া বিরোধিতা করে এই বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। এক প্রেস বিবৃতিতে অল পার্টি হুরিয়ত কনফারেন্স জানিয়েছে এই জমি আইন তাঁরা মানছেন না। মানুষ বিরোধী ও কাশ্মীরের আবেগ বিরোধী এই আইন কেন্দ্রকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

এই আইন কাশ্মীরের মানুষকে অত্যাচার করার জন্য বানানো হয়েছে বলে দাবি করে এপিএইচসির বক্তব্য কেন্দ্র নিজের ইচ্ছামত আইন কাশ্মীরের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এজন্য সঠিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা প্রয়োজন ছিল। তা না করে কাশ্মীরের মানুষের ওপর নির্যাতন করছে মোদী সরকার।

২৭ অক্টোবর কেন্দ্র জানিয়ে দেয় এবার থেকে জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখে যে কোনও ভারতীয় জমি কিনতে পারবেন সাধারণ জমি আইন মেনেই। কেন্দ্রের তরফ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র এক বিবৃতির মারফত জানিয়েছে ইউনিয়ন টেরিটরি অফ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর রিঅর্গানাইজেশন (অ্যাডপশন অফ সেন্ট্রাল ল) থার্ড অর্ডার,২০২০ অনুযায়ী জমি কিনতে পারবেন যে কোনও ভারতীয়। অর্থাৎ উপত্যকায় জমি কেনার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না।

কাশ্মীরের রূপে মুগ্ধ হয়ে সেখানে বসবাসের জন্য জমি কেনার ইচ্ছা মনে জাগে অনেক পর্যটকেরই। কিন্তু এতদিন মনের ইচ্ছে মনে চেপেই রাখতে হয়েছে, কার্যকর করতে পারেননি ৩৭০ ধারার নিয়মের কারণে। তবে, এবার ৩৭০ ধারা নিয়ে মোদী সরকারের ঘোষণার পরই সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। এবার থেকে যেকোনও ভারতীয়ই কাশ্মীরে জমি-বাড়ি কিনতে পারবেন।

কেন্দ্র জানিয়েছে এই অর্ডার সংশোধন হওয়ার পর থেকেই কার্যকর করা হবে। আরও জানানো হয়েছে দেশের যে কোনও জায়গায় জমি কিনতে গেলে যে আইন মোতাবেক কাজ হয়, এখানেও তার অন্যথা হবে না। এই অর্ডারের ব্যাখ্যা হিসেবে কেন্দ্র জেবারেল ক্লসেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর উল্লেখ করেছে বলে খবর। ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পরেই জম্মু কাশ্মীরে জমি কেনা সহজ হয়েছিল। এবার আইন দিয়ে সেই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ করল কেন্দ্র।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।