ওয়াশিংটন: বুধবার সকালে মার্কিন উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রতীক্ষিত হ্যারিকেন ‘স্যালি’। আলবামা উপকূল এলাকায় আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। এই হ্যারিকেনের জেরে মারাত্মক বন্যা হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, ক্যাটাগরি দুই মাত্রার এই হ্যারিকেন ভোর ৪ টে ৪৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) আলাবামার উপসাগরীয় উপকূলে ঘন্টা প্রতি ১৬৫ কিমি বেগে আঘাত হানে।

এই হ্যারিকেনের জেরে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের উপসাগরীয় উপকূলের কিছু অংশে প্রাণঘাতী বন্যা হতে পারে। হ্যারিকেনের জেরে কিছু এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টার।

নানান খবর মোতাবেক জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে আলাবামা এবং ফ্লোরিডার প্রায় ৭৫,০০০ বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই বন্যা শুরু হয়ে গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চলের স্কুল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই হ্যারিকেনের প্রভাবে ফ্লোরিডা সীমান্তেও ব্যপক বৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের কথাও ভাবা হয়েছে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হ্যারিকেন স্যালির জেরে দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হতে পারে। আলাবামার গভর্নর একটি প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “আমরা রেকর্ড বন্যার দিকে তাকিয়ে রয়েছি, সম্ভবত সমস্ত ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।” পাশাপাশি জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত মাসে ণ্টায় প্রায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পরে ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় লরা। ঘূর্ণিঝড় লরার সর্বাধিক গতি ছিল ১৫০ মাইল (২৪১ কিলোমিটার)। যা কিনা পেরিয়ে গেছে হায়রিকেন ক্যাটরিনাকেও। ২০০৫ সালে আছড়ে পড়া এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিল ১২৫ মাইল।

ওই ঝড়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ৪ জনের। লরার আগমনীর সংবাদ পেয়েই প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে মার্কিন সরকার। টেক্সাস ও লুইসিয়ানা প্রদেশের সরকার সামাজিক দূরত্ব রেখে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। যার ফলে মৃত্যু অনেক কমানো গেছে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।