ওয়াশিংটন : একে রামে রক্ষে নেই, তায় সুগ্রীব দোসর৷ এমনিতেই হ্যারিকেন ফ্লোরেন্স নিয়ে আতঙ্কে নর্থ ক্যারোলিনা, তার ওপর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে ‘মনস্টার’ হ্যারিকেন ফ্লোরেন্সের ঠিক পিছনেই ঘনীভূত হচ্ছে আরও একটি হ্যারিকেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে হ্যারিকেন হেলেন৷ এটিও যে কোনও মুহুর্তে আছড়ে পড়তে পারে ব্রিটিশ টেরিটোরিয়ালে৷

ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপত্তি, যার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে প্রশাসন৷ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে নর্থ ক্যারোলিনার দিকে এগোচ্ছে হেলেন৷ ব্রিটেনে সরাসরি এর প্রভাব না পড়লেও, ঝোড়ো শীতল হাওয়া সোমবার থেকে বইবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর৷ তবে এই হ্যারিকেনের অভিমুখ ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে৷ কারণ ব্রিটেনের কাছাকাছি, একটি নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে৷

ফলে হ্যারিকেন হেলেন আছড়ে পড়তে পারে ব্রিটেনেও৷ সেদিক থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ এদিকে, আমেরিকার ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বা এনএইচসি বলছে, শুক্রবার বিকেলে নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ক্যাটাগরি–৩ হ্যারিকেন ফ্লোরেন্স। বুধবার রাত পর্যন্ত হ্যারিকেনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার।

আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনার মধ্যে কোনও একটি জায়গায় আছড়ে পড়বে ফ্লোরেন্স৷ ইতিমধ্যেই ১৫ লক্ষ মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ ক্যারোলিনা তো বটেই, সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডে৷

আবহবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্যারোলিনায় অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে৷ তীব্র জলোচ্ছাসের আশঙ্কা থাকছে৷ গড় বৃষ্টিপাত হবে ১৫ থেকে ২০ ইঞ্চি। কোথাও ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গা সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ দক্ষিণ ক্যারোলিনার এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনকে সতর্ক করা হয়েছে৷ হ্যারিকেন বিশেষজ্ঞ রোবি বার্গ জানান, এমনিতেই হ্যারিকেনের আকারের ঝড় গুলির প্রকৃতি ও শক্তি সম্পর্কে আগে থেকে কিছু বলা যায় না৷ তবে ফ্লোরেন্স ঝড়টি যে উপকূল অঞ্চলে তাণ্ডব চালাবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত৷

এনএইচসি–র পূর্বাভাস, ফ্লোরেন্সের প্রকোপে দক্ষিণ জর্জিয়া থেকে দক্ষিণ ভার্জিনিয়া তছনছ হতে পারে। প্রায় ১৩ ফুট উঁচু হতে পারে সমুদ্রের ঢেউ। ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া এবং ভার্জিনিয়ায় প্রায় ৭৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ওই তিনটি প্রদেশের নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমা ছাড়াতে পারে৷ প্লাবিত হতে পারে অধিকাংশ এলাকা৷ আবহবিদ অ্যালেক্স ডিয়াকিন বলেছেন পরের সপ্তাহে এই হ্যারিকেনের প্রভাব পড়তে চলেছে ব্রিটেনে৷ অনিশ্চিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি থাকতে হবে সবাইকে৷