স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বেঁচে থাকতে হলে মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। মানুষের জীবন যাপন অপরের মানবিক সহায়তার উপরে নির্ভরশীল। এমন কোনও মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে অপরের কাছে সাহায্যপ্রার্থী নয়! আজ এমনই এক দিন, যে দিনটিকে মানবতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবতা দিবস হিসেবে পরিচিত।

এই দিনটির কথা মনে রেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করেন। সেখানে লেখা হয়েছে, “আজ বিশ্ব মানবতা দিবস। কাশ্মীরে মানবাধিকার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আসুন আমরা কাশ্মীরে মানবাধিকার ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করি।” কিছুদিন আগেই কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। কাশ্মীর এবার কেন্দ্রশাসনের আওতায়। সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীর সমস্যা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছিল। ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা কাশ্মীরে আর কার্যকর হবে না। আর পাঁচটা রাজ্যেই মতোই সমান সুবিধে পাবে কাশ্মীর।

এবার থেকে আর বিশেষ সুযোগ-সুবিধের অংশীদার থাকল না ভূস্বর্গ। এর ফলে কাশ্মীরের ভূমিপুত্ররা বঞ্চিত হবেন নিজেদের অধিকার থেকে। কারণ, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা উঠে যাওয়ায় সেখানে এবার থাবা বসাবে কর্পোরেট রাজ। গড়ে উঠবে শপিং মল, ফ্ল্যাট কালচার ইত্যাদি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মমতার টুইটে রয়েছে তারই ইঙ্গিত। বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন মনে করেন, “কাশ্মীরীরা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত– এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু, এতেও সন্দেহ নেই যে, পশ্চিমবঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে অনবরত। রাজ্য সরকারের অনুপ্রেরণায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।”

অন্যদিকে, ইতিহাসবিদ গৌতম রায় মমতার বার্তাকে কটাক্ষ করে বলেন, “এর যথার্থতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু, দেখতে হবে সেটা কে বলছেন। যিনি বলছেন, তিনি একটি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর রাজ্যে প্যারা টিচারদের আন্দোলন কলকাতা শহরে করতে দেওয়া হয় না। মফস্বলে আন্দোলন করলে, পুলিশ লাইট নিভিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বর্বর ভাবে আক্রমণ করে। তৃণমূল ছাড়া আর কোনও ব্যক্তি বা দলের মত প্রকাশের অধিকার নেই। তাই এ রাজ্যের অবস্থা এখন কাশ্মীরের মতোই।”