ফাইল ছবি।

দিপালী সেন, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে দূরশিক্ষার বিষয়ে গৃহীত কঠোর অবস্থান থেকে ‘পিছু হঠল’ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)৷ যার জেরে, ন্যাকের মূল্যায়নে ৩.২৬ না থাকলে দূরশিক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ছাড় দিল ইউজিসি৷

কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাঠানো এক চিঠির উত্তরে এমনই জানাল মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর৷

আরও পড়ুন: রক্তের চাহিদা মেটাতে এগিয়ে এলেন মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দূরশিক্ষা সংক্রান্ত বিধি ২০১৭ সংশোধন করে নতুন বিধি ঘোষণা করে ইউজিসি৷ যেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা ছিল, দূরশিক্ষার জন্য যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়কে ন্যাকের মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩.২৬ থাকতে হবে৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষা থাকলেও পর্যাপ্ত রেটিং নেই৷ তাই ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষা ব্যবস্থা হারানোর আশঙ্কা ঘনিয়ে আসছিল৷ যা প্রতিরোধে সচেষ্ট হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীও৷

প্রথমে দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় ছাড় পাওয়ার জন্য আবেদন জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতিনিধিদের এক দল দিল্লিতে ইউজিসি অফিসে যাওয়ার কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী৷ সেই মতো চলতি মাসের শেষেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা যৌথভাবে ইউজিসির কাছে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী৷ কিন্তু, তার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের অনুরোধে গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে চিঠি পাঠান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: কমিশনকে মমতার দলের তাঁবেদার বলে কটাক্ষ সুজনের

কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রীর পাঠানো ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দূরশিক্ষা ব্যবস্থায় ছাড় দেয়৷ এই বিষয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবদত্ত রায় জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর চিঠির জবাবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেছেন, পরবর্তী ন্যাক পরিদর্শন পর্যন্ত দূরশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷ অর্থাৎ, আপাতত দূরশিক্ষায় ছাড় পেল রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷

বর্তমানে ন্যাকের মূল্যায়নে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৩.১০, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩.১২, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ২.৮৬৷ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাক রেটিংও আবশ্যিক ৩.২৬-এর তুলনায় কম৷ অন্যদিকে, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাক স্বীকৃত নয়৷ তাই বর্তমানে দূরশিক্ষা নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তায় ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷ স্বাভাবিক কারণেই মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ছাড়ে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: কংগ্রেস প্রার্থীর উপর হামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল

কিন্তু, দুই বছরের মধ্যে কি ন্যাকের রেটিং ৩.২৬ করা সম্ভব? সাময়িকভাবে স্বস্তি মিললেও এই ধরনের একাধিক প্রশ্নও উঠছে শিক্ষা মহলে৷ দেবদত্ত রায় বলেন, ‘‘চাইলে সব কিছুই সম্ভব৷’’ তা হলে নিজেদের রেটিং বাড়াতে কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়? তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন যথেষ্ট ভাল৷ তাই আমরা এ বার গবেষণার দিকে বেশি নজর দেব বলে ভেবেছি৷ শিক্ষকদেরও গবেষণার দিকটা দেখার জন্য বলা হবে৷’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.