নয়াদিল্লি : ভারতে এমন বহু স্থান আছে যেখানে মানুষ এবং পশু একই জায়গায় বসবাস করে। মানুষকে জীবিকা নির্ধারণের জন্য ঘন জঙ্গলে যেতেই হয়। অনেকক্ষেত্রে কাঠ, মধু কিংবা অন্য কোনও কিছু সংগ্রহ করতে গিয়ে মানুষ প্রাণ হারায়। মাঝে লোকালয়েও চলে আসে পশু। কখনও ক্ষতি করে ফসলের , কখনও শারীরিক ভাবেও ক্ষতি হয় মানুষের। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে যে পরিমান অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়া হয় তা অত্যন্ত কম। এটাই এখনই বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর প্রভাব পড়ছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে।

অর্থ বাড়ালে কি সুরাহা হবে এবং কেন তা সুরাহা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে? বলা হচ্ছে, প্রথমত সংরক্ষণের যে পদ্ধতি এতে সুবিধা হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রচেষ্টার উপরেও এর প্রভাব ফেলবে, কারণ মানুষ পশুর সংঘর্ষে মানুষের প্রাণ ক্ষতি বা অব্যান্য কিছু ক্ষতি হলে যদি কম অর্থ দেওয়া হয় তখন রাগে ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ওই প্রজাতির উপর পালটা আক্রমণ করতেই পারে। এর সম্ভাবনা সবথেকে বেশী। ক্ষতিপূরণের অর্থ বেশী হলে ওই পরিবারের এই মনবৃত্তি পরিবর্তন হতে পারে এবং সর্বোপরি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও সুবিধা হবে। পাশাপাশি এও বলা হচ্ছে যে কোন প্রজাতির প্রাণীকে এমন মানুস-পশু সংঘর্ষপ্রবণ অঞ্চলে বেশী গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ তাও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

পিএনএএসের জার্নালের একটি সার্ভেতে উঠে এসেছে এক নয়া তথ্য, যা অবাক করার মতো। আর এই কারনেই বলা হচ্ছে ভারতে মানুষ পশু সংঘর্ষ প্রবণ অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অর্থের পরিমান বাড়ানো উচিৎ। ১১টি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঞ্চল রয়েছে তার ৫১৯৬টি পরিবারের উপর সার্ভে করেছিল পিএনএএস। সেখান থেকে জানা গিয়েছে হরিয়ানায় মানুষ পশু সংঘর্ষে মানুষের মৃত্যু হলে দেওয়া হয় ৭৬হাজার ৪০০ টাকা। মহারাষ্ট্রে ৮লক্ষ ৭৩হাজার ৯৯৫টাকা। বলা হচ্ছে ভারতে গড়ে এমন ঘটনার জন্য দেওয়া হয় ১লক্ষ৯১হাজার ৪৩৭টাকা। ছোটখাটো ক্ষতি হলে বা জখম হলে প্রাপ্ত অর্থের অঙ্ক মাত্র ৬হাজার১৮৫ টাকা।

প্রসঙ্গত সাম্প্রতিক একটি রিসার্চে বলা হয়েছে যে, বাঘেদের থাকার জায়গা কমে যাচ্ছে এবং তার সঙ্গে কমছে তাঁদের প্রজনন এবং এর জেরেই ভারতীয় বাঘের মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র রয়েছ সেটাও কমছে। একটি নতুন পরীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। এই পরীক্ষার অন্যতন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য উমা রামকৃষ্ণণ জানিয়েছেন ‘মানুষের জনবসতি যত বাড়ছে তত বাঘেদের থাকার জায়গা কমে যাচ্ছে। এর ফলে বাঘেদের বিচরণ ভূমি কমে যাচ্ছে। এর ফল মারাত্মক হচ্ছে’।

তিনি এও জানাচ্ছেন মানুষের চলাচলের জায়গা যত বাড়ছে ভারতীয় বাঘেরা তত একটা ছোট্ট নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে বদ্ধ করে নিচ্ছে নিজেদেরকে। এটা খুব খারাপ ইঙ্গিত।’ ঠিক কি সমস্যা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে , এর ফলে বাঘগুলি শুধুমাত্র তাঁদের নিজের এলাকার বাঘের সঙ্গেই মিলিত প্রজনন করছে। পরে এমনও দেখা যাচ্ছে যে তারা তাঁদের পরিবারের বাঘের সঙ্গেই প্রজনন করছে। আর এর জেরেই ভারতীয় বাঘের মধ্যে যে বৈচিত্র রয়েছে তা কমে যাবে। কারণ তারা অন্য এলাকার কিংবা অন্য ধরনের বাঘের সঙ্গে প্রজনন করছে না। এর ফলই ভয়ঙ্কর। যাওবা বাঘের সংখ্যা বাড়ছিল একসময় তা কমবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই হারাবে ভারতীয় বাঘের বৈচিত্র। এই ঘটনা সারা বিশ্বের বাঘেদের জন্যই খারাপ ইঙ্গিত, কারণ সারা বিশ্বে ৮০ শতাংশ বাঘ ভারতেই বাস করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।