স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখার জন্য কলকাতার প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে কেমন ভিড় হয় তা কারও অজানা নয়। কিংবা অফিস টাইমের বড় বাজার, কালাকার স্ট্রীট অথবা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর। বিকট জ্যামে পরে জান কয়লা হওয়ার জোগাড় হয়। অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। ঠিক এমনই অবস্থা এখন এভারেস্টেরও।

জনমানুষ, গাড়ি ঘোড়াবিহীন এভারেস্ট, সেখানেও যানজট। আসলে পর্বতারোহীদের ভিড় এমন বেড়েছে যে সেই ভিড়ের চোটে সেখানে এখন কার্যত ‘ট্রাফিক জ্যামের’ অবস্থা। পর্বতারোহী ও শেরপাদের ভিড়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গেও এখন লাইন লেগে গিয়েছে।

একের পর এক পর্বতারোহী পাহাড়ে লাইন দিয়ে শীর্ষে ওঠার ফলে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। ২১ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত এভারেস্টে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস ছিল। তাই পর্বতারোহীরাও নিরাপদে পর্বতচূড়ায় ওঠার জন্য ওই সময়টাকেই বেছে নিয়েছেন। আর পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আছেন শেরপারা ।

সবমিলিয়ে সংখ্যাটা এই মরসুমে প্রায় ৫০০ র ওপর হয়ে গিয়েছে। সবাই একসঙ্গে এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করছেন লম্বা জ্যাম লেগে গিয়েছে। আবহাওয়া যতক্ষণ ভালো থাকে, তার মধ্যেই সবাই চূড়ায় উঠতে চান। স্বভাবতই সবারই তাড়া থাকে।

কিন্তু পর্বতারোহীদের অভিযানের সঠিক কোনও ব্যবস্থাপনা আজও গড়ে ওঠেনি। সেখান থেকেই এই ট্রাফিক জ্যামের উৎপত্তি । সেই কারণে এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে অনেকেরই অক্সিজেনের একটা ঘাটতি থাকে।তখন যদি ওই ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে পড়তে হলে প্রাণ সংশয় হয় ।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা জানাচ্ছেন, এভারেস্টে ভালো আবহাওয়ায় সাধারণত ২, ৩ ও ৪ নম্বর ক্যাম্প থেকে একত্রে পর্বতারোহীরা এভারেস্টের পথে রওনা দেন। এতেই যাবতীয় জটের সৃষ্টি হয়। বুধবার বেসক্যাম্প থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, চার নম্বর ক্যাম্পের উপরেই প্রায় ২০০ জন ক্লাইম্বার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৪ ই এপ্রিল শেরপারা এভারেস্ট এর রুট ওপেন করেন। ১৬ ই এপ্রিল দুইদিন আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রায় ১৫০ জন সামিট করেছেন।

এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাংলার মেয়ে পিয়ালীকে। এদিন সকালে এভারেষ্টের ব্যালকনি থেকে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই ছিল এভারেস্ট। পৌঁছানো যায়নি জ্যামের জন্য। আজ রাতে ফের চেষ্টা করবে এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহণ করার। সব ঠিক থাকলে কাল সকালে সে এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহন করতে পারবে। এভারেস্ট জয় করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে পিয়ালী বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে জয় করতে যাবেন।